• তামিলনাড়ু রাজনীতির নয়া সুপারহিট জুটি বিজয়-তৃষা, এমজিআর-জয়ললিতার ছায়া নিয়ে চর্চা
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • চেন্নাই: ‘ভবিষ্যতে আমি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে চাই।’ সালটা ২০০৪। এক সাক্ষাৎকারে মজার ছলে এমনই বলেছিলেন তৃষা কৃষ্ণন। ২২ বছর অতিক্রান্ত। ১০ মে। হাততালি-স্লোগানে ফেটে পড়ছে গোটা স্টেডিয়াম। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন থালাপতি বিজয়। সামনেই দর্শকাসনে চোখ ছলছল করে উঠেছিল তৃষার। নিজে মুখ্যমন্ত্রী না হতে পারলেও তাঁর প্রেমিক এখন তামিলনাড়ুর মসনদে। এ যেন এক বৃত্ত পূরণ। তৃষা-বিজয়ের প্রেম, রাজনীতি সব এখন মিলেমিশে একাকার। আর এই সমীকরণ দ্রাবিড় রাজনীতির এক পুরানো কাহিনিকে মনে করিয়ে দিয়েছে। এমজিআর-জয়ললিতার ধাঁচে বিজয়-তৃষা জুটি নিয়েও এবার জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একাংশের কথায়, চিত্রনাট্য একই। তবে এক নতুন ব্লকবাস্টার জুটি পেতে চলেছে তামিলনাড়ু। 

    ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৩ সাল। ২৫টির বেশি সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিলেন এম জি রামচন্দ্রন ও জয়ললিতা। এমন হিট জুটি আর সেভাবে পায়নি দক্ষিণী সিনেমা। বিনোদন থেকে রাজনীতি। একসময় দু’জনেই এক নতুন জগতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। তিনবার বিয়ে করেন এমজিআর। তৃতীয় স্ত্রী জানকীর সঙ্গেও বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর। কিন্তু এমজিআর আর জয়ললিতার প্রেম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে। এআইএডিএমকে গঠন থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। দলের অন্দরে নানা উত্থান-পতনের মাঝেও শেষপর্যন্ত একসঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন দু’জনে।

    বিজয়-তৃষার ক্ষেত্রে একই সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। বিষয়টা কাকতালীয়। তবে ৪ মে প্রেমিকা তৃষার জন্মদিনেই বিজয় ভোটে জিতেছেন। সেদিন তৃষার মন্দিরে যাওয়া নিয়ে নানা গল্প ফেঁদেছেন অনুরাগীরা। কারও কারও কথায়, শুধু জন্মদিন নয়, বিজয়ের জন্যও প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন তৃষা। বিজয় আর তৃষাও একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে বিজয়ের। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, অনেকদিন আগে থেকেই বিজয়ের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন তৃষা। সিনেমা থেকে রাজনীতির এই নয়া যাত্রাপথে সবসময় বিজয়কে সঙ্গ দিয়েছেন। সমর্থকদের কথায়, এ যেন জয়ললিতা-এমজিআরের সেই চেনা গল্প।
  • Link to this news (বর্তমান)