সমর্থনের বার্তা ৩০ বিধায়কের, এআইএডিএমকের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী
বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট হয়ে গিয়েছে। ফলপ্রকাশ হয়েছে। তারপর নতুন সরকার গঠনও হয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই তামিলনাড়ুর ভোটপর্বে সুপারস্টার বিজয়ের আগমনকে ঘিরে যে একের পর একনাটকীয় ঘটনাপরম্পরা আবর্তিত হল, সেই পর্বের যেন অবসান হচ্ছে না। সরকার গঠনে টানাপোড়েনের পর বিধানসভার আস্থা ভোটের প্রাক্কালে ফের চমক। তামিলনাড়ুর দুই প্রধান দ্রাবিড় দলের অন্যতম এআইএডিএমকের দুই গোষ্ঠীর ফাটল আরও চওড়া হল। কাগজে কলমে না হলেও এআইএডিএমকের ভাঙন প্রায় নিশ্চিত। ইস্যু হল, বিজয়কে সমর্থন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতা বিভিন্ন দলের সমর্থনের মাধ্যমে বিজয়ের দল টিভিকে অর্জন করেছে। এবার এআইএডিএমকের সিংহভাগ বিধায়কই প্রকাশ্যে বিজয়কে সমর্থনের বার্তা দিলেন। সুতরাং এআইএডিএমকে ছাড়লে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না। বিদ্রোহীরা সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা দলীয় ফতোয়া মানছেন না। তাঁদের সমর্থন বিজয়ের দিকেই। মঙ্গলবার বিজয় নিজেই দেখা করেছেন এআইএডিএমকের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে। এর আগেও জয়ললিতার মৃত্যু এবং তাঁর বান্ধবী শশীকলার জেলযাত্রার পর এআইএডিএমকের ভাঙন ধরেছিল। পালানিস্বামী বনাম পনিরসেলভাম। এবার সি সন্মুগম নতুন বিদ্রোহী। বিধানসভায় আস্থাভোটের প্রাক্কালে সরাসরি সন্মুগমের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বিধায়কদের সমর্থনের বার্তা বিজয়ের দলকে স্বস্তি দিয়েছে। সন্মুগম বলেছেন, এআইএডিএমকের আর ভবিষ্যৎ নেই। একের পর এক নির্বাচনে হেরে চলেছে। সুতরাং যদি আবার এআইএডিএমকে ভেঙে যায়, তাহলে দলের শক্তিক্ষয় হবে। ক্রমেই সেই দুর্বল এআইএডিএমকের রাশ নেবে বিজেপি। কারণ, এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপির জোট হয়েছিল এবার। কিন্তু এই জোট সাফল্য পায়নি। সুতরাং কমবেশি স্পষ্ট হচ্ছে যে, তামিল রাজনীতিতে তামিল সিনেমার গ্ল্যামার আমদানি করে এম জি রামচন্দ্রণ এবং জয়রাম জয়ললিতা যে দলকে শীর্ষ নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই দল এখন পতনোন্মুখ।
১৯৪৯ সালে তৈরি ডিএমকে দলে প্রথম ভাঙন ঘটে ১৯৭৩ সালে। ওই সময়ই প্রিয় বন্ধু তামিল সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার করুণানিধির হাত ছেড়ে সুপারস্টার এম জি রামচন্দ্রণ নতুন দল এআইএডিএমকে গঠন করেন। তারপর থেকে তামিল রাজনীতিতে আর জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দল মাথা তুলতে পারেনি। সরকারে এসেছে কখনও ডিএমকে, কখনও এআইএডিএমকে। ৫৩ বছর পর আবার এক নতুন দ্রাবিড় পার্টির সরকার এল ক্ষমতায়। বিগত ৫৩ বছরে অনেক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও নির্বাচনী সাফল্য সেভাবে কেউ পায়নি। সিনেমার অন্যতম নায়ক বিজয়কান্তের এমডিএমকে কিছু সাফল্য পেলেও সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি শক্তি অর্জন করতে পারেনি। সেই ম্যাজিক দেখালেন বিজয়। এমজিআর এবং জয়ললিতার স্মৃতিধন্য এআইএডিএমকে দলকে তিনি ভেঙেই দিতে চলেছেন!