নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশে কি আবারও লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযমের বার্তা দেওয়া পরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। মঙ্গলবার অবশ্য এব্যাপারে যাবতীয় মুখরোচক চর্চা উড়িয়ে দেয় কেন্দ্র। সাফ জানানো হয়েছে, এখনই তেমন কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, ‘আগামী কালই লকডাউন ঘোষণা করা হবে, এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এখনও আসেনি। তবে এটাও ঠিক যে,ভারতের তেল উৎপাদন সংস্থাগুলি দিনে এক হাজার কোটি টাকা লোকসান করছে। তাই লকডাউন না হলেও দেশবাসীকে জীবনযাপন বদলে ফেলতে হবে। সংযত থাকতে হবে। পণ্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এখন থেকে।’ শিল্পমহলের আতঙ্ক কাটাতে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির এক সম্মেলনের ফাঁকে আশ্বাসবাণী দিয়েছেন তিনি। দেশে কত জ্বালানি সঞ্চিত রয়েছে, জানিয়েছেন সেই পরিসংখ্যানও। তাঁর দাবি, ৬০ দিনের পেট্রপণ্য সঞ্চিত আছে আমাদের কাছে। তরলীকৃত গ্যাসের পরিমাণ ৪৫ দিনের সঞ্চয় রয়েছে। এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে দিনে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করা হত, সেখানে এখন ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। তাহলে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ছে? পুরী বলেন, ভোটের পরই হঠাৎ করে বাড়ানো হবে, এরকম নয়। মনে রাখতে হবে, আমরা চার বছর পেট্রল ডিজেলের দাম বাড়াইনি! স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট— আজ নয়, কাল পেট্রপণ্যের দাম বাড়ছেই!
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টা আগে দেশের স্কুলগুলিকে পরামর্শ দিয়েছেন অনলাইনে ক্লাস করার জন্য। জনসভা থেকে দেশবাসীকে বলেছেন, অন্তত এক বছর পরিবারে যে অনুষ্ঠানই হোক, সোনাদানা কিনবেন না। পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজির মতো জ্বালানি সাশ্রয় করতে হবে। যথাসম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম করা হলেই ভালো হয়। এমনকি বাড়িতে ভোজ্যতেলের ব্যবহারও কমিয়ে দিতে হবে। দেশবাসীকে দেশের সংকটে সংযত হতে হবে। কৃচ্ছ্রসাধন করা দরকার। নরেন্দ্র মোদির সাফ কথা, কোভিড যদি হয় শতাব্দীর সবথেকে বড়ো সংকট, তাহলে এই দশকের বৃহত্তম সংকট হল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। তিনি বিদেশি পণ্য ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার আবেদনও করেছেন। এই প্রতিটি প্রস্তাব যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা আর নিছক পরামর্শ স্তরে থাকে না। পরোক্ষ এটাই হতে চলেছে সরকারি নির্দেশ। তাতেই দেশজুড়ে লকডাউনের জল্পনা চরমে। আতঙ্ক গ্রাস করেছে শিল্পমহলে।
আতঙ্ক নিরসন করতে এদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, প্যানিক করার কোনো কারণ নেই। কারণ, পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রপণ্য ও এলপিজির সাপ্লাই ও সঞ্চয় রয়েছে। তবে একইসঙ্গে দেশের স্বার্থে দেশবাসীকে কিছুটা হলেও জীবনযাপনে বদলাতে হবে। পণ্য ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই এই রীতি পালন করা দরকার দেশবাসীর। তবে পুরীর সবথেকে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য— বিগত চার বছর ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। একটিও দেশ নেই যারা পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। একমাত্র ভারত সেই শক্তি দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আজও কোনো এমন পেট্রল পাম্প নেই, যেখানে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি কোনো রেশনিং ব্যবস্থাও আরোপ করা হয়নি যে, নির্ধারিত পরিমাণ পেট্রল-ডিজেলই ক্রয় করা যাবে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, খুব সামান্য হলেও দেশে এলপিজি ব্যবহার কমেছে। তবে তা সংকটের কারণে নয়। নিজস্ব প্রতিনিধি,