নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবেশী রাজ্য অসমের মডেলেই অনুপ্রবেশ বন্ধ ও সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকালে গুয়াহাটি পৌঁছান শুভেন্দু। বিমানবন্দরে ফুল, মালা আর জয় শ্রীরাম স্লোগানে বরণ করা হয় তাঁকে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দেশের সুরক্ষার জন্য অসম যেভাবে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর সঙ্গেই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে, বাংলাতেও সেই পদক্ষেপ করা হবে।’ একইসঙ্গে অনুপ্রবেশ রোধে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সদ্য সমাপ্ত বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সুরক্ষা ছিল বিজেপির অন্যতম ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার শুভেন্দু অধিকারী সহ প্রত্যেকেই নির্বাচনি প্রচারে ‘ঘুষপেটিয়া’, অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে বাংলায় প্রচারে এসে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। শুনিয়েছিলে থ্রি-ডি তত্ত্ব। অনুপ্রবেশকারী ‘ডিটেক্ট’, ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ এবং ‘ডিপোর্ট’ (ফেরত পাঠানো)। থ্রি-ডি এই তত্ত্ব মেনে অসমে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে পুশব্যাক এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে অনেকটাই সমর্থ হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বাংলায় যে সেই তত্ত্ব প্রয়োগ হতে চলেছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এ রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত ২২১৬.৭ কিমি দীর্ঘ। এর মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে ১৬৪৮.৭ কিলোমিটারে। এখনও বাকি ৫৬৯ কিমি অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সমীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ৪৫৬.২ কিমি অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাবে। বাকি ১১২.৮ কিমি জল সীমান্ত। যেখানে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। কাঁটাতারবিহীন এহেন জল সীমান্ত অংশে অসমে চালু থাকা কম্প্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইবিএমএস) অনুসরণ করে সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাতে মূলত কাজে লাগানো হয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, স্থানীয় ‘বিশ্বস্ত’ লোকজনের থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পদক্ষেপ এবং সেন্সর প্রযুক্তি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, কাঁটাতারের বেড়া এবং সীমান্ত চৌকি করতে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের কাছে ১৫৭৭ একর জমি চেয়েছিল বিএসএফ। তার মধ্যে মাত্র ৩৯৩ একর জমি হস্তান্তরিত হয়েছে। তাই ক্ষমতায় এসেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে সমস্ত জমি হস্তান্তর করা হবে। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করেছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর।
এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের ভালোর জন্য অসম, ত্রিপুরায় যে কাজ হয়েছে, সেই কাজ বাংলার বিজেপি সরকারও করবে। বাংলায় আগে তুষ্টিকরণের সরকার ছিল। সেই সরকার বিএসএফকে জমি পর্যন্ত দেয়নি। দেশের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল।’ অসমের মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘হিমন্ত বিশ্বশর্মা আমার দাদা, দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। অনেক সাহায্য করেন। ওঁকে দেখে অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর নেতৃত্বে অসমের ভালো হবে। বাংলার নির্বাচনি প্রচারেও সময় দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই, শুভেচ্ছা জানাই।’