• উঠে গেল তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা, প্রোটোকল মেনে সুরক্ষা পাবেন বিধায়করা
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: তৃণমূলের নেতানেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। শুধুমাত্র বিধায়ক ও সাংসদরা প্রোটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা পাবেন। সোমবার সন্ধ্যায় সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার, কমিশনারেটের সিপি, ডিআইজি সহ রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর রাতেই নিরাপত্তা রিভিউ করে প্রতিটি জেলা থেকেই নেতানেত্রীদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। পরাজিত বিধায়কদেরও নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল। তবে জয়ী বিধায়করা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই নিরাপত্তা পাবেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও সরকার পোষিত কমিটির চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টরদের নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বহরমপুর পুরসভা ও মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপশি কিছু কিছু তৃণমূল নেতার পদ না থাকলেও এতদিন শাসকদলে থাকার সুবাদে বেশ কিছু নিরাপত্তারক্ষী পেতেন। তাঁদের নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সমস্ত পুলিশকর্মী মঙ্গলবার পুলিশ লাইনে এসে কাজে যোগ দেন। 

    এদিন থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার ২২ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়করা একজন করে সশস্ত্র পুলিশ পাবেন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আগের মতোই নিরাপত্তা পাবেন মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সাংসদ। তবে মুর্শিদাবাদের আট বিজেপি বিধায়ক দুজন করে সশস্ত্র পুলিশ নিরাপত্তারক্ষী পাবেন। 

    জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, আমি বিধায়ক থাকাকালীন একজন করে নিরাপত্তারক্ষী পেতাম। কিন্তু কখনওই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতাম না। আমার নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজন হতো না। এখন নতুন সরকার কাকে নিরাপত্তা দেবে, কাকে দেবে না সেটা তারা বিচার করবেন। 

    বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই আমার লাইফ থ্রেট ছিল। কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা আমাকে দু’ বার খুনের চেষ্টা করেছিল। সেই ঘটনা বিবেচনা করে ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে সিকিউরিটি দিয়েছিল পুলিশ। চেয়ারম্যান হিসেবে সিকিউরিটি দেয়নি আমায়। ভোটের ফলাফলের পর অপ্রয়োজনীয় পুলিশ কর্মী রাখার দরকার নেই। তবে পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ, বিজেপির লোকদের নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। ওরা খুন খারাপির রাজনীতি করে না। কংগ্রেসের মার্ডার সিন্ডিকেট যেন আমার ক্ষতি না করে, সেটা খেয়াল রাখুক। 

    তবে বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, এতদিন তৃণমূলের পাড়ার নেতাদের সঙ্গেও সশস্ত্র পুলিশ কর্মী ঘুরে বেড়াত। আমাদের সরকার এখন সেসব হতে দেবে না। যাঁদের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে, তাদেরকেই দেওয়া হবে এবং প্রটোকল মেনে যাঁরা নিরাপত্তা পাবেন, তাঁরা পুলিশ পাচ্ছেন। দল না দেখেই তো সমস্ত বিধায়কদের সশস্ত্র পুলিশ কর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। সেটা ঘোষণা করা হয়েছে শুনলাম।
  • Link to this news (বর্তমান)