রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: নিজেকে দিনহাটার ‘অভিভাবক’ মনে করেন উদয়ন গুহ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরাজিত মন্ত্রী বা তাঁর অনুগামীদের নির্দেশ ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা প্রান্তিক এলাকা দিনহাটায় কিছু করার সাহস হত না। রোষানলে পড়ার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত দিনহাটা শহর ও গ্রামের মানুষ। তাই কমল-পুত্রের হারে এখন ভয়ের পরিবেশ উধাও, বলছেন স্থানীয়রা।
কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী অজয় রায়ের কাছে বিপুল ভোটে হেরে গণনার পরের দিন রাতের অন্ধকারে কার্যত ‘লুকিয়ে’ স্ত্রী, পুত্রকে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন দিনহাটার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তারপর থেকে বাড়ি তালাবন্ধ। তবে, তিনি দিনহাটা ছেড়ে ঠিক কোথায় গিয়েছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। উদয়ন আদৌ কবে এলাকায় ফিরবেন তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে দিনহাটার শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র।
দিনহাটায় উদয়নের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য শেষ হতেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। কাকে,কীভাবে, কোথায় হেনস্তা করেছেন তাঁর অনুগামীরা,সেসব কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন শহরের বহু বাসিন্দা। ‘হাওয়া খারাপ’ বুঝতে পেরে কয়েকদিন আগেও শাসকদলের দাবাং নেতা বলে পরিচিত কয়েকজন এলাকাছাড়া। কেউ আবার নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। কবে ফিরছেন দিনহাটায়? প্রশ্ন করা হয়েছিল কমল গুহের পুত্রকে। তাঁর জবাব, ঠিক সময়েই দিনহাটায় পৌঁছব। কেন এখানকার মানুষ আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন আমি জানি না। এই প্রান্তিক শহরের বাসিন্দা তাপস সরকার, তপন বর্মনরা বলেন, উদয়ন গুহ দিনহাটাকে নিজের জমিদারি মনে করেছিলেন। মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সাগরেদরা হুমকি দিতেন। এসবের জবাব দিয়েছে মানুষ। তিনি হেরে যাওয়ায় আতঙ্কের অবসান হয়েছে। দিনহাটা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক জয় গোপাল ভৌমিক বলেন, দিনহাটাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। মানুষের নাগরিক অধিকার ছিল না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যেত না। কিছু বললে হুমকি দেওয়া হত। আমাকেও অনেকবার হুমকি দেওয়া, নিগ্রহ করা হয়েছিল। দিনহাটার মানুষ অনেকদিন পর শান্তিতে আছে। আগের ভয়ের আবহ আর নেই। এই পরিবেশ যেন থাকে। দিনহাটার জয়ী বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কথায়, উদয়ন গুহ দিনহাটার মানুষের উপর যা অত্যাচার, অবিচার করেছেন, সেটা ভালো জানেন। ভোটে হেরে জনরোষের ভয়ে আগেই দিনহাটা থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আমরা কেউ তো তাঁকে কিছু বলিনি। সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে যেতেন না।