সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে ফের পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ। সোনাঝুরি জঙ্গলে একের পর এক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। খোয়াই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়া নিয়েও সরব পরিবেশপ্রেমীরা। পাশাপাশি কোপাই নদীর তীরে বেআইনি নির্মাণ ঘিরেও বাড়ছে ক্ষোভ। মঙ্গলবার সকালে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত সোনাঝুরি জঙ্গল, খোয়াই হাট ও কোপাই নদীর তীর পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাঝুরি জঙ্গলে সম্প্রতি প্রায় ২০-২৫টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোনাঝুরি হাটকে ঘিরে পরিবেশ দূষণ, জঙ্গলে অবৈধ নির্মাণ, আবর্জনা ফেলা ও বেআইনি রিসর্ট তৈরির অভিযোগে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে বন দপ্তর ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে একাধিকবার রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। যদিও এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় পরিবেশপ্রেমীদের উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মামলা চললেও বাস্তবে জঙ্গল ধ্বংস থামছে না। তার মধ্যেই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত।
এদিন তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, জঙ্গলের মধ্যে এভাবে গাছ কাটা দেখে ব্যথিত হলাম। একদিকে বনাঞ্চল কমছে, অন্যদিকে বনের জায়গা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পরিবেশ আদালতে একটি মামলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আদালতে শুনানি আটকে রয়েছে। ফের গাছ কাটার এই সমস্ত ছবিও আদালতে জমা দেব। একইসঙ্গে বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সুভাষবাবু বলেন, বন দপ্তর এখন বন উঠিয়ে দেওয়ার দপ্তরে পরিণত হয়েছে। এখানে যে হাট বসে তাও বেআইনি। আদালত কখনও এভাবে অনুমতি দেবে না।
জেলার বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, আমরা সরকারের সব নির্দেশিকা মেনে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে চলেছি। আগামী দিনেও যেরকম নির্দেশিকা দেওয়া হবে সেই মতো কাজ হবে।
অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কোপাই নদী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় যে “প্রতিবেশিনী কোপাই”-এর উল্লেখ বারবার উঠে এসেছে, সেই নদীর পাড় দখল করে সেখানে ইটভাটা, কোথাও আবার বেআইনি রিসর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ার অভিযোগ উঠছে। এদিন কোপাই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন সুভাষবাবু। জানা গিয়েছে, অতীতে জেলা প্রশাসনের তরফে কিছু নির্মাণকাজ বন্ধ হয়েছিল সেখানে। কিন্তু নদীর পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ ক্রমশ দখল ও পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুভাষবাবু বলেন, যেভাবে রিসর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে তাতে কোপাইয়ের আর কোনো পাড় থাকবে না! প্রকৃতি রুষ্ট হলে কাউকে ছাড়ে না। নদীর তীরে এভাবে নির্মাণ সম্পূর্ণ পরিবেশ আইন বিরোধী। তাই কোপাই নদীকে বাঁচাতে আমরা ফের পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হব।