• মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়: উপাচার্য, রেজিস্ট্রার সহ সকলেই অবসরপ্রাপ্ত! নতুন সরকারের ঘোষণায় চাকরি নিয়ে ধন্দ
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অবসরের পরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এক্সটেনশনে থাকা সরকারি কর্তা, অফিসার ও অধ্যাপকদের সরিয়ে দিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। এই অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুরের মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডেভেলপমেন্ট অফিসার ও ফিনান্স অফিসারের ভবিষ্যৎ কী তানিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই অবসরপ্রাপ্ত। উপাচার্য সৌরাংশু মুখোপাধ্যায় ২০২৪সালে ডিসেম্বর মাসে নিযুক্ত হন। ২০২৫সালে ৩১ডিসেম্বর তিনি অবসর নিয়েছেন। তারপর এক্সটেনশন আছেন। একইভাবে ওই ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, ডেভেলপমেন্ট অফিসার ও ফিনান্স অফিসার প্রত্যেকেই অবসরের পর এক্সটেনশনে আছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? এই মুহূর্তে মহিষাদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই প্রশ্নটাই ঘুরছে। উপাচার্য বলেন, ‘আমাকে চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর কী হবে জানা নেই। আমাদের মোট চারজন অবসরের পর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। উচ্চশিক্ষা দপ্তর কী নির্দেশ দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।’

    সরকারিভাবে ২০১৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জন্য মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়। ২০২০ সাল থেকে মহিষাদল রাজ কলেজের দু’টি ফ্লোরে ইউনিভার্সিটির পঠনপাঠন শুরু হয়। মহিষাদলের কাপাসএড়িয়ায় ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ভবনের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কলেজেই পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের পঠনপাঠন চলছে। মহিষাদল রাজ কলেজের ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম চলায় মাঝেমধ্যে দু’পক্ষের ঠোকাঠুকিও বাধে। কলেজের বক্তব্য, ইউনিভার্সিটি নিজস্ব ভবনে চালু হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমতিক্রমে কলেজের ভবনে ইউনিভার্সিটি চলছে। সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাগড়া দিতে পারে কি?

    গত ১৪জানুয়ারি পৌষপার্বণ উপলক্ষ্যে মহিষাদল রাজ কলেজে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। যদিও ওই কলেজ ক্যাম্পাসে চলা ইউনিভার্সিটি খোলা ছিল। উপাচার্য সহ ছাত্রছাত্রীরা এসে দেখেন, গেট বন্ধ। এনিয়ে বিস্তর ঝামেলা হয়। এজন্য তৎকালীন বিধায়কের হুমকির মুখে পড়েন কলেজের প্রিন্সিপাল। তারপর সোমবার বিকালে এরকম একটি ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টা নাগাদ উপাচার্য অফিস থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন, গেট বন্ধ। কিছুক্ষণ পর সেই গেট খোলা হয়।

    রাজ্যের নতুন সরকার অবসরপ্রাপ্তদের রাজ্য সরকার, সরকার পোষিত সংস্থা, কমিশন থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশিকার জেরেই জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানদের চাকরি রাতারাতি বাতিল। এই অবস্থায় মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সহ চার পদাধিকারীর ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এই দোটানার মধ্যেই মঙ্গলবার মহিষাদল রাজ কলেজের প্রিন্সিপাল গৌতম মাইতি বেশকিছু কর্মীকে নিয়ে কলেজে মিটিং করেন। ওই কর্মীরা কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির কাজ দু’টোই সামলান। তালিকায় পাম্প অপারেটর, ইলেক্ট্রিশিয়ান, ঝাড়ুদার, লিফটম্যান, গেটকিপার প্রমুখ আছেন।

    অনেকেই বলছেন, মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটির চারজন কর্তার চাকরি বাতিল হলে তাহলে প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়বে। নতুন করে নিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠান চালানোই অসম্ভব। তাই শেষমেশ কী হয় সেদিকে প্রত্যেকে নজর রাখছেন। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে এনিয়ে কোনও নির্দেশ আসে কিনা সেদিকে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
  • Link to this news (বর্তমান)