জলজীবন মিশন প্রকল্পে নদীয়া জেলার বকেয়া ২৫০ কোটি, টাকা পেলেই ১ লক্ষ পরিবারে পানীয় জল
বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
নিজস্ব, প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাড়িতে পাইপলাইনের সংযোগ পৌঁছেছে, কিন্তু মিলছে না জল। নদীয়া জেলার প্রায় এক লক্ষ পরিবারের কাছে এখন এটাই বাস্তব। প্রশাসনের দাবি, জলজীবন মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বকেয়া মিটলেই দ্রুত জল সরবরাহ করা হবে। বন্ধ হয়ে থাকা একাধিক প্রকল্পের কাজ ফের শুরু করা হবে। সংযোগ রয়েছে অথচ জল পাচ্ছেন না এমন পরিবারগুলির কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াকেই এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ায় জলজীবন মিশনের আওতায় মোট উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ৬২ হাজার বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যা প্রায় ৮৮ শতাংশ। এই সাফল্যের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নদীয়া। তবে বাস্তবে বহু এলাকায় সংযোগ থাকলেও নিয়মিত জল সরবরাহ হচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এমন প্রায় এক লক্ষ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বাড়িতে সংযোগ পৌঁছালেও তারা এখনো জল পাচ্ছেন না। প্রশাসনিক সূত্রে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ দীর্ঘদিন বকেয়া টাকা না দেওয়ায় দেড় বছর ধরে কার্যত থমকে রয়েছে জেলার জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজ।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষবার এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। তারপর থেকে নতুন করে আর কোনো টাকা না আসায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ মাঝপথে আটকে যায়। ফলে নতুন সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের কাজও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুধুমাত্র নামমাত্র সংস্কারের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল ব্যবহার করে কিছু জরুরি সংস্কারের কাজ করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি(পিএইচই) দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে রাজ্যে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রকল্পে ফের গতি আসার আশায় বুক বাঁধছে প্রশাসন। আধিকারিকদের একাংশের মতে, বকেয়া অর্থ এলেই বন্ধ হয়ে যাওয়া পাইপলাইন বসানো, রিজার্ভার নির্মাণ এবং জলশোধনাগার তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। তার ফলেই জল না পাওয়া পরিবারগুলির সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দাবি, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। এখনো জেলার ১ লক্ষ ৩১ হাজার বাড়িতে পাইপলাইন সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার কাজ বাকি রয়েছে। উল্লেখ্য, নদীয়া জেলায় পানীয় জলের সংকট দীর্ঘদিনের। জেলার ১৮টি ব্লকের মধ্যে ১৬টিতেই ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে নিরাপদ পানীয় জলের সমস্যা ক্রমশই জটিল আকার নিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জল জীবন মিশন প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে বড় আশার আলো হয়ে উঠেছিল। দ্রুত গতিতে সংযোগের কাজ এগোলেও জল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে এখন বাড়ছে ক্ষোভ। বিশেষ করে কালীগঞ্জ, করিমপুর, নাকাশিপাড়া এবং চাপড়া ব্লকের বহু এলাকায় সংযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত জল না পাওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।