নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিজেপির সরকার গঠনের পর জেলাশাসকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই বেআইনি বালি খাদান বন্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে বৈঠকে তিনি অবিলম্বে এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বেআইনি বালি খাদানের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, সরকারের নির্দেশমতো আমরা এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
জেলা ভূমি দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রায় ৪৮টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। ওইসব খাদান থেকে বালি তোলার জন্য জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তরকে রাজস্ব দিতে হয়। তার বাইরেও জেলায় বেআইনিভাবে বালি তোলা হয় বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে। বছর দশেক আগে বেআইনি বালি তোলার রমরমা শুরু হয়। ওইসময় বাঁকুড়ার ভৌগোলিক সীমানায় দামোদর নদ থেকে বর্ধমানের গলসি হয়ে বালি পাচার করা হত। ওই পথ ধরেই পাচারকারীরা বাঁকুড়া জেলায় ঢোকে। তাদের মাধ্যমে জেলার কয়েকজন প্রভাবশালীর বালি পাচারে হাতে খড়ি হয়। গত কয়েক বছরে জেলার তিন মহকুমাতেই রমরমিয়ে বেআইনি বালি কারবার চলে। দামোদরের পাশাপাশি দ্বারকেশ্বর, জয়পাণ্ডা, কংসাবতী নদী থেকে যথেচ্ছ বালি পাচার হয়। খাতড়া মহকুমায় একটিও বৈধ খাদান ছিল না। অথচ গত দু’বছর ধরে কংসাবতী ও জয়পাণ্ডা নদী থেকে দেদার বালি পাচার করা হয়। তালডাংরা, সিমলাপাল, সারেঙ্গা ও রাইপুরে বালি পাচারের রমরমা সবচেয়ে বেশি ছিল। শিলাবতী থেকেও পাচার হয়। তালডাংরার এক প্রভাবশালী ও তার ছেলে বালি পাচারে সিদ্ধহস্ত ছিল। প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল। কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলত না। খাতড়ার মতো বাঁকুড়া সদর ও বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকার বিভিন্ন ব্লকেও বেআইনি বালি খাদান চলত। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ওইসব খাদান বন্ধ রয়েছে। বেআইনি বালি কারবারিবা বর্তমানে জল মাপছে। বালি মাফিয়ারা অবশ্য এলাকাছাড়া হয়ে গিয়েছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বেআইনি বালি, পাথর, কয়লার কারবার কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। সরকারের এব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট রয়েছে। প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের বেআইনি কারবারে লাগাম টানার নির্দেশ দিয়েছেন। বেআইনি বালি কারবারের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদী ভাঙনজনিত সমস্যায় দু’পাড়ের বাসিন্দারা জর্জরিত হন। তাঁদের এলাকা থেকে বেআইনিভাবে তোলা বালি নদীপাড়ের বাসিন্দারা চড়া দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় তার রোষ প্রশাসনের উপরও পরোক্ষভাবে পড়ে। অথচ ওই কারবারের ব্যাপারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা কিছু জানতেই পারি না। বেআইনি বালি কারবারে মাফিয়া ও তাদের মদতদাতারা ফুলেফেঁপে ওঠে। বালি মাফিয়াদের সমূলে উপরে ফেলার সময় হয়েছে। ফাইল চিত্র