‘গ্রেপ্তার করা হোক ছেলের হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ডকে’ , মুখ খুললেন চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি
বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, চণ্ডীপুর: ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমার সন্তানের মতো। ওঁর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত মাস্টার মাইন্ডকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। খুনের কারণও প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হোক।’ মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাড়িতে বসে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমনই আর্জি রাখলেন নিহত চন্দ্রনাথ রথের হতভাগ্য মা হাসিরানি রথ।
গত ৪ মে, মঙ্গলবার ভোটের ফল ঘোষণা হয়। বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে খড়কুঁটো হয়ে যায় তৃণমূল। পরদিন, অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে খুন হয়ে যান শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। প্রায় সাতদিন পর উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ সিং, বিহার থেকে ভিকি মৌর্য ও মায়াঙ্ক মিশ্রকে গ্রেপ্তার করেছে সিট। তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত চন্দ্রনাথের পরিবার। কিন্তু, এখনও হাসিরানিদেবীর কাছে স্পষ্ট নয়, কেনই বা খুন হতে হল তাঁর ছেলেকে! খুনের নেপথ্যে মূল মাথাই বা কে?
চণ্ডীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ছ’কিলোমিটার ভিতরে কুলুপ গ্রাম। এখানেই চন্দ্রনাথের পৈত্রিক বাড়ি। এদিন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ চলছে। কিছু আত্মীয়স্বজনও এসে গিয়েছেন। এতসব ব্যস্ততার মধ্যেও হাসিরানিদেবী ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মাঝে মধ্যেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যায় রেখেছেন চন্দ্রনাথের ভাই সৌমেনের স্ত্রী। অসুস্থ হয়েও ছেলে চন্দ্রনাথের হাড়হিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন হাসিরানিদেবী। বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে শুনলাম। বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা টাকার বিনিময়ে আমার ছেলেকে খুন করেছে। কিন্তু, সেই টাকা কে দিল? কী কারণে আমার নিরীহ ছেলেটাকে কারা খুন করাল, সেটা সামনে আসা জরুরি।’
খানিক থমকে আঁচলে চোখের জল মুছলেন হাসিরানিদেবী। ফের আক্ষেপের সুরে বলতে শুরু করলেন—‘আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার ছেলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুর একান্ত আপন ছিল। নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন। ওঁর সারাক্ষণের সঙ্গী ছিল। শুভেন্দুবাবু সিবিআই তদন্ত উপযুক্ত মনে করেছেন। তাই তাদের হাতে তদন্তভার দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আমার সন্তানের মতো। তাঁর কাছে আমার কাতর আর্জি, এখনও পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ভাড়াটিয়া খুনি। কিন্তু, টাকা নিয়ে কারা খুন করাল, সেটা প্রকাশ্যে নিয়ে আসা জরুরি। আশা করব, সেটা সামনে আসবে। যারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে হবে।’
নিহত চন্দ্রনাথের ভাই সৌমেনও বলছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি নিশ্চয় সুবিচার পাইয়ে দেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’ কুলুপ গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুনীল প্রধান বলেন, ‘নতুন সরকার শপথ নেওয়ার ঠিক প্রাক-মুহূর্তে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুন গোটা রাজ্যে চর্চিত বিষয়। আমরা আশা করব, খুনের ঘটনায় মূল মাথা কে, সেটা সামনে আসবে। কেন তাঁকে খুন করা হল, সেটাও রাজ্যবাসী জানতে চায়। আমার মতো গোটা কুলুপবাসীর কাছেও এটাই চাওয়া। গ্রামের এমন একজন নিপাট ভদ্র, ভালো ছেলের অকালে হারিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।’