• ডোমকলের পর রাজ্যেও বামেদের বাছবে মানুষ, আত্মবিশ্বাসী আনিসুর
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ডোমকল: গেরুয়া ঝড়ে পর্যদুস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। তবে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে বামেরা। কারণ, গেরুয়া সুনামির মাঝে ডোমকলে ফিরেছে লাল ঝান্ডা। বহু বছর পর ফের নিজেদের পুরোনো গড় ফিরে পেয়েছে বাম শিবির। ডোমকলে লাল ঝান্ডার এই প্রত্যাবর্তন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বামেদের। আশার আলো দেখছেন ডোমকলের প্রাক্তন বাম বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমানও। বামেদের এই জয় ফিরিয়ে এনেছে তাঁর বহু বছর আগের লড়াইয়ের স্মৃতিকে। 

    ডোমকল রবীন্দ্রমোড় থেকে উত্তরে একটু এগলেই চোখে পড়ে সাদামাটা একটি দোতলা বাড়ি। সেখানেই নিভৃত জীবন কাটান আনিসুর রহমান। বয়সের ভারে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও, ভোটের সময় দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে এখনও দেখা যায় তাঁকে। ডোমকলের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলমত নির্বিশেষে এখনও আলাদা গুরুত্ব বহন করে তাঁর নাম। বাংলার একের পর এক বাম দুর্গ ভেঙে পড়ার সময়ও দীর্ঘদিন ডোমকলকে সিপিএমের দখলে রেখেছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। টানা ছ’ বারের বিধায়ক আনিসুর রহমান ডোমকলে বাম সংগঠনের ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ডোমকল আর আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ছিল সমার্থক শব্দ। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে প্রধান, তারপর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সেখান থেকে বিধায়ক। পরে বাম আমলে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রিত্বও সামলেছেন। ডোমকলে রাজ্য প্রাণী হাসপাতাল, গার্লস কলেজ, করেছেন। ডোমকলকে মহকুমা তকমা এনে দিয়েছেন। তাছাড়া এখানে একাধিক সরকারি পরিকাঠামো গড়ে ওঠার পিছনেও তাঁর অবদান রয়েছে। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন আনিসুর রহমান। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল এলাকারই ছেলে তথা বাম সংগঠন থেকে উঠে আসা মোস্তাফিজুর রহমানকে। কিন্তু সেবার সবুজ ঝড়ে হারাতে হয়েছিল ডোমকল। বিধানসভায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল বামেরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবারে ফের মোস্তাফিজুর রহমানকেই প্রার্থী করে ডোমকল জিতেছে বাম শিবির। কেটেছে শূন্যের গেরো। এদিন নিজের বাড়িতে চেয়ারে বসে হাতে খবরের কাগজ নিয়েই তিনি বলছিলেন, একশো শতাংশ নিশ্চিত ছিলাম, এবারে ডোমকলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব। রানা জিতবেই। জিতলও তাই। আমরা মানুষের কাছে পৌঁছতে পেরেছি, আর তারই ফল এই ফলাফল। তবে শুধু ডোমকল নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও বামেরা ফের ঘুরে দাঁড়াবে, সেই বিশ্বাস স্পষ্ট তাঁর গলায়। তিনি বলছিলেন, বামেরা ঘুরে দাঁড়াবেই। তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। এই সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যদি কেউ রুখে দাঁড়াতে পারে, তাহলে একমাত্র বামেরাই পারে। এভাবে মেরুকরণ করে মানুষের ক্ষতি হয়, গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়। অনেকেই লড়াই করছে। কেউ জিতছে, কেউ জিততে পারছে না। কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েনি। এরপরই নিজের রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে বলছিলেন, তখন পরাক্রান্ত কংগ্রেসের আমল। বামপন্থী রাজনীতি করার জন্য জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে নানা চাপ আসত শাসক দলের তরফে।  
  • Link to this news (বর্তমান)