• সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, দাম না ওঠায় বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: নওদার চাষিদের কাছে সুখসাগর প্রজাতির পেঁয়াজ এবার দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ন্যূনতম দামেও পেঁয়াজ কেনার কেউ ছিলনা। এখনও বাড়ির উঠান, বাঁশ বাগান, আম বাগান, রাস্তার পাশে পেঁয়াজের বহু বস্তা রোদ, বৃষ্টিতে পড়ে রয়েছে। নওদা ব্লকের বাতাস পচা পেঁয়াজের গন্ধে ভারী হয়ে রয়েছে। মজুরের খরচা উঠবেনা হিসাব করে প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ফসলই তোলেননি চাষিরা। মে মাসের শুরু পর্যন্ত ৪-৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম ঊর্ধমুখী হওয়ায় ৮-৯ টাকা কেজি দাম উঠেছে। সংরক্ষিত উচ্চ গুনমানের কিছু পেঁয়াজ ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। তবে প্রান্তিক চাষিদের সংরক্ষনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেই পেঁয়াজ রোদ জলে পচতে শুরু করেছে। সেই পেঁয়াজই এখন ঝাড়াই বাছাই শুরু করেছেন চাষিরা।

    মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ হয়েছিল। জেলার সিংহভাগ পেঁয়াজ চাষ হয় নওদা ব্লকে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার পেঁয়াজে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ চাষে বিঘা প্রতি ২৫-২৭ হাজার টাকা খরচ হয়। চাষিদের দাবি এবার বিঘা প্রতি ৫০-৫৫ কুইন্টাল হারে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। যা সাম্প্রতিক কালের সেরা ফলন বলেই চাষিরা মনে করছেন। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরদের মুখে হাসি ফুটেছিল। পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় চাষিদের মুখের হাসি কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজে বদলেছে। পরেশনাথপুরের সুজয় মণ্ডল দশ বিঘা জমিতে সুখসাগর প্রজাতির পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। সুজয়বাবু বলেন, এতদিন ভালো পেঁয়াজ ৪-৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। গত দু›দিনে সামান্য দাম বেড়েছে। নওদা ব্লকে এখনও ২৫-৩০ শতাংশ পেঁয়াজ চাষিদের বাড়িতে পড়ে রয়েছে।

    বেলডাঙা-পাটিকাবাড়ি রাজ্য সড়ক ধরে গেলে কালীতলা থেকে ত্রিমোহনী, আমতলা, শিবনগর এলাকা সহ রাস্তার দুপাশে পেঁয়াজ লাট দেওয়া অবস্থায় নজরে পড়বে। জায়গার অভাবে চাষিরা বাগান বা রাস্তার পাশেই কোনোভাবে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। রোদ আর বৃষ্টিতে পচনের হার বাড়ছে। পচা পেঁয়াজের গন্ধে বাতাস ভরে রয়েছে। দিন যত গড়াবে পচনের হার ততই বাড়বে। আর তাতেই চাষিদের উৎকন্ঠা বাড়ছে। সর্বাঙ্গপুর এলাকার চাষি শিশির মণ্ডল বলেন, এবার ফলন দেখে মোটা লাভের অঙ্ক কষেছিলাম। বিক্রির হাল দেখে এখন খরচার টাকা উঠবে কিনা সেই চিন্তা করছি। সরকার সহায়ক মূল্যে পেঁয়াজ কিনলে চাষিরা উপকৃত হতো। আমতলা, শিবনগর এলাকায় রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার বস্তা পেঁয়াজ পড়ে রয়েছে। দাম বাড়ায় আর খরিদ্দার আসতে শুরু করায় চাষিদের স্বস্তি ফিরছে। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও বস্তা প্রতি বাদ যাচ্ছে প্রচুর। শিবনগরের ইদ্রিস বিশ্বাস বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি করতে এবার চরম বিপাকে পড়েছি। ৭০ কেজির বস্তা ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন দাম বেড়েছে ঠিকই তবে ৭০ কেজির বস্তা ঝাড়ায় বাছায় করে ৩৫-৪০ কেজিতে দাঁড়াচ্ছে। কেদারচাঁদপুর পঞ্চায়েতের নূরজামাল মণ্ডল বলেন, মজুরের টাকা উঠবে না বলে বেশ কিছু জমির পেঁয়াজ না তুলেই জমিতে চাষ দিয়ে দিয়েছি। এবার পেঁয়াজের এই অবস্থা হতে পারে কেউ ভাবেনি। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)