• গঙ্গাজল ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে ‘শুদ্ধিকরণ’ লাভপুরের লক্ষ্মী মন্দিরে
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে লাভপুর স্টেশন এলাকার লক্ষ্মী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হল ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার উদ্যোগে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। যদিও এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয় বলেই উদ্যোক্তাদের দাবি, তবুও অনুষ্ঠানে কয়েকজন বিজেপি নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

    সম্প্রতি কঙ্কালীতলার পর ফুল্লরাতলায় ‘অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার আবহেই এবার লক্ষ্মী মন্দিরে এই বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

    স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরের পরিবেশ ও ধর্মীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না। তাই মন্দিরের পবিত্রতা বজায় রাখতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও নামসংকীর্তনের মাধ্যমে শুদ্ধিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতা জয়ন্ত চন্দ্র বলেন, আগের শাসকদলের নেতারা নিজেদের মতো করে মন্দির পরিচালনা করতেন। সাধারণ মানুষের জন্য মন্দির পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল না বলেই আমাদের মনে হয়েছে। তাই মন্দিরকে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিক্ষক মাধব দত্ত, স্থানীয় বাসিন্দা রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। তাঁদের দাবি, মন্দির যেন সকলের জন্য খোলা থাকে। সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই পরিচালিত হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।

    এ বিষয়ে লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা বলেন, বহু বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়ম মানা হয়নি। তৃণমূল সরকারের আমলে ধর্মীয় পরিসরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতার বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে। তাই এখন সেসব স্থানে আবার প্রাচীন রীতি ও নিয়ম মেনে চলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মন্দিরে শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, প্রতিটি ধর্মীয় স্থান তার নিজস্ব নিয়ম ও রীতিনীতি মেনেই চলুক, সেটাই কাম্য। এই বিষয় নিয়ে আমি আর কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)