নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই। তৈরি করা হয়েছে সাত সদস্যের সিট। দায়িত্বভার নিয়েই মঙ্গলবার বিকেলে এজেন্সির অফিসাররা মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মামলার কেস ডায়েরি সংগ্রহ করেছেন। ধরা পড়া তিন শার্প শ্যুটারকেও নিজেদের হেপাজতে নিচ্ছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে সিবিআইয়ের সন্দেহ, শুধু গ্যাংস্টাররা নয় পুলিশের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তা না হলে এত নিখুঁত অপারেশন চালানো সম্ভব নয়। রবিবার রাতে ভিনরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শার্প শ্যুটার রাজ সিং, ভিকি মৌর্য ও মায়াঙ্ক মিশ্রাকে। ভিকিকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সে একসময়ে বিহারের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি সুবোধ সিংয়ের হয়ে কাজ করত। পরে অন্য গ্যাংস্টার শেরুর দলে ভিড়েছিল। সুবোধ ও শেরু পশ্চিমবঙ্গের জেলে বসে খুন করার কন্ট্রাক্ট নিচ্ছে। এখান থেকে তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুই গ্যাংস্টারের শাগরেদরা একে অন্যের দলে কাজ করছে টাকার জন্য। ভিকি তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সুবোধ। পরে তার কাছে শেরুর ফোন এসেছিল। তার থেকে অনুমান করা হচ্ছে, দুই গ্যাংস্টার এক হয়ে এই কাজটি করেছে। যৌথ টিম গোটা অপারেশন চালিয়েছে। ইতিমধ্যে সুবোধকে একপ্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তাঁরা। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে সিবিআই। সেই কারণে তারা শেরু ও সুবোধ দুজনকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। প্রাথমিকভাবে সিবিআইয়ের অফিসাররা জানতে পারছেন, বিতর্কিত এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে সুবোধের সম্পর্ক ছিল। তাঁর সোর্স হিসাবে সুবোধ বিভিন্ন গ্যাংয়ের খবরাখবর দিতেন। অপারেশনের স্টাইল দেখে এজেন্সির অফিসাররা বুঝতে পারছেন, শুধু গ্যাংস্টার নয়, অপারেশনের আগে কোনো পুলিশ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার বিভিন্ন কৌশল বাতলে দিয়ে তাদের সাহায্য করে থাকতে পারেন। যাতে তারা ধরা না পড়ে। আর গ্রেপ্তার হলেও মূল মাথা অর্থাৎ ‘প্ল্যানার’ পর্যন্ত তদন্তকারীরা পৌঁছতে না পারেন। ওই অফিসারের সঙ্গে সুবোধ যোগাযোগ করেছিল কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। তবে সিবিআই নিশ্চিত এক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা যথেষ্ট কঠিন।
তদন্তভার হাতে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ হাতে নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তারা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারছেন, অপারেশনের ক্ষেত্রে চারটি ধাপ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম তিনটি ধাপ দ্রুত ক্র্যাক করা গেলেও পরের ধাপে অর্থাৎ প্ল্যানারের কাছে পৌঁছতে তাঁদের কিছুটা সময় লাগবে। আটজনের জড়িত থাকার তথ্য মিললেও এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করছেন তাঁরা। ভিকি তদন্তকারীদের কাছে জানিয়েছে, তাদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। ভাড়ার অ্যাকাউন্টে এই টাকা এসেছিল। এমনকি অপারেশনের পর শার্প শ্যুটার রাজ সিং অযোধ্যা দর্শনও করেছিল। পরিবার দাবি, ঘটনার দিন সে উত্তরপ্রদেশেই ছিল। তাহলে কীভাবে রাজের নাম জড়াচ্ছে এই খুনে।