লক্ষ্য লোকসভা নির্বাচন, সংগঠন গোছাচ্ছেন মমতা, সোশ্যাল মিডিয়া শাখার গুরুত্ব বৃদ্ধি
বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরের লক্ষ্য স্থির করে ফেলে দলীয় সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়লেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে সংগঠন চাঙা করতে নেমে পড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া ও তথ্য-প্রযুক্তি শাখার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বলেন, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হটাবই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রচারে এটাকে সবরকমে ব্যবহার করতে হবে। এজন্য দেবাংশু ভট্টাচার্য ও উপাসনা চৌধুরীকে মাথায় রেখে পাঁচজনের নতুন কমিটি গড়া
হয়েছে। কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকারের সমস্ত জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেতৃত্ব। তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরে সবচেয়ে চর্চার বিষয় এখন আইপ্যাক! তাদের কাজকর্ম নিয়েই বহু প্রশ্ন তৃণমূল নেতাদের। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া শাখার উপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে দল।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করবেন মমতা। সংসদীয় পরিসরে লড়াইয়ের রূপরেখা দেবেন। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠকে ডাকলেন। অভিষেকও থাকবেন। দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ পর্যালোচনা হবে। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসনে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি সেখানে ২০৭টিতে জিতে রেকর্ড গড়েছে! একুশে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল। মাত্র পাঁচবছরের ব্যবধানে তারা ‘দুশো পার’ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু বিজেপির এই বিপুল সাফল্যের পিছনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ত্রুটিগুলি খুঁজে বের করতে চাইছেন মমতা। কোন আসনে, কত ভোটে এবং কেন তৃণমূল প্রার্থীরা হেরেছেন? তা জানার চেষ্টা হবে। খতিয়ে দেখা হবে অন্তর্ঘাতের দিকটিও। যে-সমস্ত আসনে দলের ফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে, সেগুলির দিকে দেওয়া হবে বাড়তি নজর।
সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলি মেরামত করাই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। যাঁরা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করছেন, শীঘ্রই কড়া শাস্তির মুখেই পড়তে হবে তাঁদের। ওইসঙ্গে
দলের একাধিক শাখা সংগঠন এবং জেলা সংগঠনগুলিকে নতুনভাবে সাজাবার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে শুক্রবারের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর সকলের।