• নিটে প্রশ্ন ফাঁস: ফুঁসছেন বাংলার পরীক্ষার্থীরা, এনটিএ বন্ধ ও দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের অন্যতম বড়ো প্রবেশিকা পরীক্ষা। আনুমানিক প্রায় ২৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেন। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সেই নিট পরীক্ষাই বাতিল হল। ফুঁসছেন পশ্চিমবঙ্গের পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে উচ্চমাধ্যমিকের পর কোনো পাঠক্রমে ভরতি না-হয়ে বিপুল ব্যয়ে বিভিন্ন সেন্টারে পড়াশোনা করেছেন। লক্ষ্য ছিল প্রথম দিকের র‌্যাঙ্ক। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাঁরা বলছেন, ২০২৪-এর পর আবার! আমাদের কেরিয়ার নিয়ে কি ছেলেখেলা চলছে? কেন্দ্র এনটিএ-কে বাতিল করছে না কেন? 

    তাঁদের একাংশের বক্তব্য, এনটিএ অপারগ। প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে দেওয়া হোক রাজ্যগুলিকেই। প্রসঙ্গত, শেষ পাঁচবছরে ১৫.৪৪ লক্ষ, ১৭.৬৪ লক্ষ, ২০.৩৮ লক্ষ, ২৩.৩৩ লক্ষ এবং ২২.০৯ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক তরুণ বলেন, তিনটি বছর নষ্ট হল। নিট-এ সফল হব, এটাই ছিল লক্ষ্য। কলকাতার নামী সংস্থায় কোচিং নিয়েছি। বাড়িতে ১০-১২ ঘণ্টা পড়তাম। প্রশ্নও সহজ হয়েছিল। দারুণ র‌্যাঙ্ক আশা করেছিলাম। পরবর্তী পরীক্ষায় কী হবে জানি না। 

    ২০২৪ সালের কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআই তদন্ত হয়। ফের এক কাণ্ড! এবার ভুয়ো পরীক্ষার্থী আটকাতে আবার বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছিল কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁস হল। এখন পরীক্ষার আয়োজক সংস্থাকে অপদার্থ বলেই ভাবছেন সকলে। 

    এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে দুবার নিট কেলেঙ্কারির যৌথ তদন্তের দাবি জানাল ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্ট। সংগঠনের চেয়ারপার্সন ডাঃ লক্ষ্য মিত্তলের দাবি, ২০২৪-এ এমনই তদন্ত হয়েছিল। সেবারের কেলেঙ্কারির পান্ডা সঞ্জীব মুখিয়া আইনের ফাঁক গলে জামিন পেয়ে যায়। সেবার 

    যথার্থ তদন্ত হলে এই দিন দেখতে হত না। তাই আগেরবারের সূত্র ধরেই এবারের তদন্ত হোক। মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। এনটিএ, কোচিং ইন্ডাস্ট্রি এবং সরকারি কর্তাদের মধ্যে অশুভ আঁতাঁতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রককে এর দায়িত্ব নিতে হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)