• কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নজরদারিতে পশ্চিমবঙ্গেও ‘দিশা’ কমিটি
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি পর্যম্ত সবার যৌথ সমন্বয়েই হবে উন্নয়নের কাজ। সহযোগিতা করবেন জেলাস্তরের আধিকারিকরা। এই উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৬ সালে জেলায় জেলায় ‘ডিস্ট্রিট ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি’ বা ‘দিশা কমিটি’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে গেলেও পূর্বতন সরকার এই কমিটি গঠনের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তিই জারি করেনি। নজরদারির পাশাপাশি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও বড়ো ভূমিকা পালন করে এই কমিটি। ২০২২ সালে ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও কমিটি গঠন নিয়ে কোনো হেলদোল দেখায়নি আগের সরকার। পালাবদলের পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে সেই কমিটি গঠন হতে চলেছে। এ বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘মানুষের কাছে সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে যা যা করণীয়, সবটাই করা হবে।’ 

    সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এবার কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যে ‘দিশা কমিটি’ চালু হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে নজরদারি চালাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই কমিটি। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর (বছরে অন্তত ৪ বার) এই কমিটির বৈঠক বাধ্যতামূলক।

    সরকারি তথ্য এবং সংসদীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার একটিতেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য এই নজরদারি কমিটি গঠন হয়নি। ফলত বৈঠকের প্রশ্নও নেই। ২০১৬ সালের জুন মাসে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে গঠিত এই কমিটির মূল লক্ষ্য হল সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলার প্রবীণ লোকসভা সাংসদ এই কমিটির চেয়ারম্যান হন। ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি, স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো প্রকল্পের তদারকি করে এই কমিটি। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও এ বিষয়ে সেই অর্থে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেই অভিযোগ। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকেও এই ইস্যু উত্থাপন হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। নিয়মিত ‘দিশা কমিটি’র বৈঠক না হলে এবং তার কার্যবিবরণী পোর্টালে আপলোড না করা হলে অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পরবর্তী দফার অনুদান পেতে সমস্যা হতে পারে বলেই জানিয়েছিল কেন্দ্র। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বারবার চিঠি দিয়ে দ্রুত বৈঠক ডাকার আবেদন জানানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)