• অগ্রাধিকারের তালিকায় মেট্রোপলিটন-নিউটাউন উড়ালপুল, মিলবে টাকা, কাজ শুরুর আশায় কেএমডিএ
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি। টেন্ডারও হয়ে রয়েছে। প্রকল্পের খরচ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এছাড়াও রয়েছে নানাবিধ জটিলতা। ফলে গত ৫-৬ বছরে শুরুই করা যায়নি বহু প্রতীক্ষিত মেট্রোপলিটন-মহিষবাথান উড়ালপুলের কাজ। এই আবস্থায় রাজ্যে পালাবদল হতেই আশার আলো দেখছেন কেএমডিএ (কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) কর্তারা। এই উড়ালপুল নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কেএমডিএ’র নজরে রয়েছে রুবি মোড়ের স্কাইওয়াক সহ পাইপলাইনে থাকা শহরের একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

    মাঝেরহাট উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পর কেএমডিএ এবং পূর্তদপ্তরের হাতে থাকা সমস্ত ফ্লাইওভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত সরকার। সেই কাজ করতে গিয়ে দেখা যায়, চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের হাল ভালো নয়। বিশেষজ্ঞ কমিটি ওভারব্রিজের বেহাল অবস্থা নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কা প্রকাশ করে। তারা প্রস্তাব দেয়, বর্তমান চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার ভেঙে ফেলা হোক। নতুন করে তৈরি করা হোক একটি ফ্লাইওভার। মেট্রোপলিটন থেকে বিস্তীর্ণ ভেড়ি এলাকার উপর দিয়ে নিক্কো পার্ক, কলেজ মোড় হয়ে মহিষবাথান পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালপুল তৈরির পরিকল্পনা সেই সময়ই গৃহীত হয়। কলেজ মোড় এবং নিক্কো পার্কের দিক থেকে এই উড়ালপুলে ওঠা-নামার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ দু’টি ফ্ল্যাঙ্ক তৈরি হবে। উড়ালপুলটি চালু হলে ই এম বাইপাস থেকে সরাসরি নিউটাউনের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপিত হবে। কমবে যানজটের দুর্ভোগ। কিন্তু পরিবেশ সংক্রান্ত অনুমোদন পেতেই কয়েক বছর কেটে যায়। একটা সময় এই উড়ালপুল তৈরির কাজ পূর্তদপ্তরের হাতে চলে যায়। পরে ফের কেএমডিএর হাতে দায়িত্ব আসে। টেন্ডার করে একটি বহুজাতিক সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়াও হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই উড়ালপুলের কাজ আর শুরু হয়নি। এখন পশ্চিমবঙ্গেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। ফলে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব হবে না বলেই মনে করছেন কেএমডিএ কর্তারা। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নতুন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে এই উড়ালপুলের ব্যাপারে তদবির করা হবে। কোন কোন কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, তার রিপোর্ট পেশ করা হবে মন্ত্রীর কাছে। 

    সূত্রের খবর, রুবি মোড়ে স্কাইওয়াকের উল্লেখও থাকতে পারে সেই রিপোর্টে। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। যাদবপুর থানা থেকে অভিষিক্তাগামী পথে রয়েছে জীবনানন্দ সেতু। সেটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে কেএমডিএর। তার পাশে আরও একটি ৬০০ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণের প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি রয়েছে। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিনের সরকারে অর্থের অভাব হবে না বলেই আশা করা যায়। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। সবটা নিয়েই মন্ত্রীকে রিপোর্ট দেওয়া হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)