• স্ত্রী কাউন্সিলার হতেই রকেটের গতিতে উত্থান হাওড়ার ‘বড়ে’র
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শিবপুরের চরা বস্তির ঘিঞ্জি গলি থেকে জিটি রোডের অভিজাত আবাসন—গোটা এলাকায় ‘সিন্ডিকেট’এর একচ্ছত্র  কারবার চালাত শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে। অভিযোগ, একদিকে তৃণমূলের পদের দাপট, অপরদিকে একসময়ে স্ত্রী ছিলেন শাসকদলের কাউন্সিলার—রমরমিয়ে চলছিল ‘ধান্দা’। এলাকার ‘বড় ভাই’ সাজার সঙ্গেই কখনও আবার বিপুল দানধ্যান করে ‘মসিহা’ ইমেজ তৈরির চেষ্টা। বর্তমানে স্ত্রী সমেত পলাতক এই তৃণমূল নেতাকে ঘিরেই চর্চা রাজনৈতিক মহলে। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি শপিং মলের সাধারণ কর্মী শামিম ওরফে বড়ে রাজনীতির স্বাদ নিতে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে পুরসভা ভোটে লড়াই করেছিল। তবে দ্রুত উত্থান শুরু হয় রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায়। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্ত্রী শামিমা বানো হাওড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই সম্পত্তি বাড়াতে শুরু করে বড়ে। পরে নিজেও তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে এলাকায় আরও প্রভাব বিস্তার করে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ৩৪ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে কার্যত একচ্ছত্র দাপট ছিল তার। পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে বেআইনিভাবে গোডাউন ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে বহুতল আবাসনে জল ও বিদ্যুতের সংযোগ পাইয়ে দেওয়া, আদায় হতো মোটা অঙ্কের কাটমানি। পিএমবস্তি ও চরাবস্তির বেআইনি বহুতল নির্মাণেও ছিল বড়ের নিয়ন্ত্রণ। নীচুতলার পুলিশ কর্মীদের কথায়, ‘এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে গেলেই স্কোয়ার ফুট পিছু ৫ হাজার এবং দোকান কিনলে স্কোয়ার ফিট পিছু ৩০ হাজার টাকা দিতে হতো বড়ে বাহিনীকে। 

     ২০২৩ সালে শিবপুরে রামনবমীর মিছিলে হামলার ঘটনায় এনআইএর হাতেও গ্রেপ্তার হয়েছিল বড়ে। বিজেপির হাওড়া সদর সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলের মদতেই এই ধরনের দুষ্কৃতীরা বেড়ে উঠেছিল। মানুষ এই জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে। দ্রুত বড়েকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ মধ্য হাওড়ার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়ালে তার দায় দলের নয়।  শামিম আহমেদ।
  • Link to this news (বর্তমান)