• মেলেনি বিচার, নিহত বরুণ বিশ্বাসের পরিবার শুভেন্দুকে পাশে চায়
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘প্রতিবাদের মৃত্যু হয়, প্রতিবাদীর নয়’—সুটিয়া আন্দোলনের শহিদ  বরুণ বিশ্বাসকে ঘিরে এই বাক্য আজও সবচেয়ে বড়ো সত্য। ১৪ বছর কেটে গেলেও সেই সত্যের সামনে বিচার আজও অধরা। তবে, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের নতুন করে আশার আলো দেখছে ‘প্রতিবাদী শিক্ষকে’র পরিবার। ‘জাস্টিস’ চেয়ে পরিবার দ্বারস্থ হতে চলেছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

    উত্তর ২৪ পরগনায় গাইঘাটার পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দা বরুণ বিশ্বাস ছিলেন একাধারে শিক্ষক, সমাজকর্মী ও নির্ভীক প্রতিবাদী মুখ। বাংলাদেশ থেকে আসা জগদীশ বিশ্বাসের পরিবার এই মাটিতেই স্থায়ী হয়। ১৯৭২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া বরুণ ছোটোবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হলেও ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন এক সক্রিয় সমাজকর্মী। ২০০০ সালের সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ড রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেয়। সেই ঘটনার পর নির্যাতিতাদের পাশে দাঁড়াতে বরুণ গড়ে তোলেন গাইঘাটা-সুটিয়া গণধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চ। এর মাধ্যমে তিনি নারীসুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার কাজ শুরু করেন। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক পরিচিত মুখ। 

    এরপর ইছামতী নদী সংস্কার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেই বিষয়েও সরব হন বরুণ। অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং স্থানীয় স্তরের তোলাবাজির বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ করেন। আর সেই প্রতিবাদই তাঁকে ক্রমশ প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন করে তোলে বলে দাবি পরিবারের। ২০১২ সালের ৫ জুলাই। স্কুল থেকে ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে বটতলার কাছে বাইক তুলতে গিয়েছিলেন বরুণ। সেখানেই খুব কাছ থেকে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। মুহূর্তে থেমে যায় এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। 

    শুরু হয় এক দীর্ঘ বিচারহীনতার অধ্যায়। তারপর কেটে গেছে ১৪ বছর। এইসময়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গিয়েছেন পরিবার। বিশেষ করে দিদি প্রমীলা বিশ্বাস। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছেও গিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের আলোচনায় এসেছে বরুণ বিশ্বাসের হত্যা মামলা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইবে পরিবার। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। বরুণের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস বলেন, ভাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল বলেই ওকে খুন হতে হয়। এত বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষাই করেছি, বিচার পাইনি। এখন রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। তাই নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অবশ্যই যাব। তবে কীভাবে যাব, সেটা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেই ঠিক করব। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বরুণ বিশ্বাসের পরিবার ফের সক্রিয়। ১৪ বছরের পুরানো এই মামলায় কি এবার সত্যিই কোনো অগ্রগতি হবে, নাকি আবারো প্রতিশ্রুতির অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে ন্যায়বিচারের? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
  • Link to this news (বর্তমান)