• উলুবেড়িয়া পুরসভা: সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষকে না দিয়ে নিজেদের কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন তৃণমূলের কাউন্সিলার। এই অভিযোগ উঠেছে উলুবেড়িয়া পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রীনা দত্ত দাস এলাকার উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে সেখানেই ডাঁই করে রেখেছিলেন ত্রাণসামগ্রী। মঙ্গলবার ওই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ত্রাণ সামগ্রী বের করতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

    জানা গিয়েছে, কাউন্সিলার রীনা দত্ত দাস ওয়ার্ডের যদুরবেড়িয়া রথতলার একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মানুষকে পরিষেবা দিতেন। অভিযোগ, এদিন দুপুরে একটি গাড়ি করে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা সেইসব ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেগুলি আত্মসাত করাই উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা ত্রাণসামগ্রী বের করতে বাধা দেন। ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘরটি তালা দিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন সময় গরিব মানুষের জন্য ত্রিপল, শাড়ি, জামাকাপড় দেয়। কাউন্সিলার সেইসব জিনিস না দিয়ে জমিয়ে রেখেছিলেন। সেইসব সামগ্রী এদিন বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলি। এলাকার বাসিন্দা দ্যুষ্মন্ত মাইতি বলেন, রাজ্যে পালাবদল হতেই এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে আর দেখা যাচ্ছে না। এদিন দুপুরে কেউ না থাকার সুযোগে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা আর্বজনা ফেলার গাড়িতে করে ত্রাণসামগ্রী পাচারের চেষ্টা করছিলেন। আমরা জানতে পেরে বাধা দিয়েছি। আমরা কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। 

    যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রীনা দত্ত দাস। তিনি বলেন, আমার দলীয় কার্যালয় ছোটো বলে আমি পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি ঘরে ত্রাণসামগ্রী রেখেছিলাম। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় এইসব ত্রাণসামগ্রী আর বিলি করা যায়নি। এখন নির্বাচনি আচরণবিধি উঠে যাওয়ায় এদিন সেসব বিলির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন এলাকাবাসী বাধা দেয়। ত্রাণসামগ্রী বিলি সহ মজুতের সমস্ত তথ্য তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন রীনা দত্ত দাস। 
  • Link to this news (বর্তমান)