• কাটতে চলেছে ১২৫ দিনের কাজে ‘বাধা’, উদ্যোগী মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
    বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় চার বছর রাজ্যে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ। এই সময়ে যেমন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ এর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনই আমূল বদলও এসে গিয়েছে প্রকল্পে। নাম, দিন, মজুরি—সর্বত্র। মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি আইন বা মনরেগার বদলে প্রকল্পের নাম হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজিভিকা মিশন। যাকে ছোট করে ডাকা হচ্ছে ‘জি রাম জি’ নামে। আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি সুনিশ্চিত করতে চলেছে মোদি সরকার। পারিশ্রমিকও বেড়েছে ১৩ টাকা। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন ছিল, বাংলার জব কার্ড হোল্ডাররা কি কাজ পাবেন? কারণ, পূর্বতন সরকারের আমলে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মনরেগা আইনের ২৭ নম্বর ধারা আরোপ করা হয়েছিল। তার ফলে টাকা এবং কর্মদিবস বরাদ্দ, দুটোই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলায়। এই ধারা তোলা না হলে কোনোভাবেই রাজ্যকে প্রকল্পের অধীনে আনা সম্ভব নয়। আর পঞ্চায়েত দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করেই সেই উদ্যোগ নিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের তরফ থেকে দ্রুত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানানো হচ্ছে। 

    মঙ্গলবার পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলে গিয়েছেন, জি রাম জি বলুন, বা আবাস যোজনা—ভারত সরকার টাকা দেবে। তার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। উপভোক্তাদের নতুন তালিকাও তৈরি হবে। সময় লাগবে। যেখানে যত দুর্নীতি হয়েছে, সবের তদন্ত হবে। তদন্ত ও কাজ একসঙ্গে চলবে।’ 

    এদিন বিকেলে বিধাননগরে পঞ্চায়েত দপ্তরে পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকও করেছেন দিলীপবাবু। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে উঠে আসে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প এবং কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়ে ২৭ নম্বর ধারা তোলার বিষয়টিও। সূত্রের খবর, কেন্দ্রকে এই আরজি জানিয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তবে তার আগে শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মন্ত্রী। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্ট উভয়ই এরাজ্যে এই প্রকল্প অবিলম্বে চালুর নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এবারই প্রথম রাজ্যের তরফে ২৭ নম্বর ধারা প্রত্যাহারের মাধ্যমে কাজ চালু করার আরজি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রকে। 

    সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত দপ্তরের মাধ্যমে কার্যকর হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখনও বাংলায় চালু হয়নি, তারও তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার এসে গিয়েছে। এখন থেকেই আধিকারিকদের কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়তে বলেছেন দিলীপবাবু। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ভালো কাজ হলে কেন্দ্রের সবরকমের সহায়তা মিলবে। ফলে আগামী দিনে এরাজ্যে বন্ধ থাকা আরও একটি প্রকল্প আবাস যোজনার নতুন উপভোক্তা চিহ্নিত করতে সমীক্ষার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসনিক মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)