নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোভিডের সময় বন্ধ সবকিছুই। অথচ প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর রেস্তরাঁর নামে লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকার। এই সময়ে এত বিপুল পরিমাণ লেনদেন কীভাবে হল? প্রাক্তন মন্ত্রীর মামলার শুনানিতে ব্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ আদালতে প্রশ্ন তুলল এই কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ইডির দাবি, এর মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সুজিত বসু একাধিক রিয়েল এস্টেট সংস্থায় ঘুরপথে বিনিয়োগ করেছেন বলেও দাবি তুলেছে তারা। এজেন্সি আদালতে জানিয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথি ও তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে আছে। সওয়াল শেষে সুজিতবাবুকে দশ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হন সুজিত বসু। মঙ্গলবার তাঁকে ইডির বিশেষ আদালতে তোলা হয়। ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে জানা যায়, সুজিতবাবু দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরির সুপারিশ করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁরা ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে নিয়োগের সুপারিশের প্রমাণ পেয়েছেন। এই পর্বেই নিতাই দত্তের নাম উঠে এসেছে। ইডি কোর্টে জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতিতে মোটা টাকা এসেছিল। এই টাকাই ঘুরপথে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে দাবি করেন, ‘২০২০ সালে কোভিডের সময় সব বন্ধ ছিল। তাহলে তাঁর রেস্তরাঁয় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বিক্রি হয় কীভাবে? রেস্তরাঁর সব কর্মী বাড়ি চলে যাবার পরেও এই বিপুল পরিমাণ টাকার বিক্রি হয়েছে। দু’টি রেস্তরাঁর অ্যাকাউন্টে যথাক্রমে ১.৮ কোটি, ১.৬ কোটি, ১.৭৪ কোটি ও ৭৯ লক্ষ টাকা এসেছে কোভিডের সময়। এর বাইরে নগদে লেনদেন হয়েছে যথাক্রমে ১.৭৫ কোটি, ১.৭৯ কোটি ও ৬৮ লক্ষ টাকা। কোভিড কালে ধাবা বন্ধ থাকাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। পানশালার অ্যাকাউন্টে এসেছে ১.২ কোটি টাকা।’ আদালতে ইডির আইনজীবীর আরও দাবি, একটি বহুতলের তিনটি তলা কোনোরকম পেমেন্ট ছাড়াই পেয়েছিলেন সুজিতবাবু। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল জানতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। সুজিতবাবুর আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘যে সমস্ত নথির ভিত্তিতে তাঁর মক্কেল গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেগুলি ২০২২-২৩ সালে পাওয়া গিয়েছে। ২০২২ সালে যে বয়ান নেওয়া হয়, তার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের মে মাসে সুজিতবাবুকে জেরা করা হচ্ছে। আর মামলার তদন্ত তো হয়ে গিয়েছে! তাহলে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কী প্রয়োজন?’ সওয়াল শেষে অবশ্য প্রাক্তন মন্ত্রীকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতেই পাঠায় আদালত।