পুরসভার প্রায় ১০০ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকের বাড়ল না চাকরির মেয়াদ, স্কুলের পঠনপাঠন চালানো নিয়ে সংশয়
বর্তমান | ১৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলে গিয়েছে চাকরি। অনিশ্চয়তার মুখে জীবন-জীবিকা। তাই নিয়ে এবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দ্বারস্থ হন পুরসভার প্রায় ১০০ জন অস্থায়ী-চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। যদিও, মেয়রের দেখা তাঁরা পাননি। পুরসভা সূত্রে খবর, ফের তাঁদের পুনর্বহাল করার সুযোগ ক্ষীণ। এই বিষয়ে আইন বিভাগের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, গত (২০১৫-২০২১) বোর্ডের সময়ে পুরসভার শিক্ষা বিভাগ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে। কিন্তু প্রশিক্ষিত শিক্ষক হিসেবে তাঁদের যে নির্দিষ্ট ডিগ্রি থাকার কথা ছিল, সেটা তাঁদের ছিল না। রাজ্য সরকারের নিয়মানুযায়ী শিক্ষকদের বিএড, ডিএলএড-এর মতো ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই ডিগ্রিগুলি না থাকলে শিক্ষক হিসেবে পড়াতে পারবেন না তাঁরা। যার জেরে পরবর্তীকালে পুরসভার বর্তমান বোর্ড তাঁদের ‘শিক্ষক’ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে অশিক্ষক বা শিক্ষা কর্মী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করে। এতদিন ছয় মাস অন্তর তাঁদের চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হত। তাঁরা কোনো স্কুলে শিক্ষক হিসেবে, আবার কোথাও শিক্ষা কর্মী হিসেবে শিক্ষককে সহযোগিতা করার কাজ করতেন বা স্কুলের অন্যান্য যাবতীয় কাজ সামলাতেন। মানবিক দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেই জানাচ্ছে পুর শিক্ষা বিভাগ। কিন্তু, গত ১৮ এপ্রিল এই প্রায় ১০০ জনের চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের মরশুমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত ফাইল গেলে, সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আধিকারিক এই ধরনের নিয়োগের উপর প্রশ্ন তোলেন। এবং পুনর্বহালের বিষয়টি আটকে দেন। রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’য় কিংবা ‘মানবিক’ দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে যেভাবে এতদিন এই শিক্ষকদের পুনর্বহালের বিষয়টি দেখা হচ্ছিল, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার সুযোগ আর নেই বলেই মত পুরসভার একাংশের আধিকারিকদের। যার জেরে এখন আতান্তরে পড়েছেন এই কর্মীরা। মঙ্গলবার তাঁরা মেয়রের সঙ্গে দেখা করেন। সমস্যার কথা জানান। এই প্রসঙ্গে পুর শিক্ষাবিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপন সাহা বলেন, এই বিষয়ে আমাদের আর কিছু করার নেই। একটা সময় কারও চাকরি কেড়ে নেওয়া হবে না বলে মানবিকতার খাতিরে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওনাদের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আর পুনর্বহাল করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আইনি দিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।