বিজয়লক্ষ্মী বর্মণের নতুন নাটক ‘অশ্রুত তর্পণ’। প্রথমেই বলতে হয়, এটি একটি মহাকাব্যের বিনির্মাণ মহাভারতের সঙ্গে। সেই সব ঘটনাবলী এবং চরিত্রগুলির সঙ্গে দর্শকরা সবাই প্রায় পরিচিত। বলাই বাহুল্য, এত দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই মহাকাব্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে নানা উপকাহিনি।
মূল আখ্যানবস্তু থেকে হয়তো সেগুলি অনেকখানি সরেও গিয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, এই আখ্যানের বিষয় এবং বিভিন্ন চরিত্র নির্মাণের মধ্যে অজস্র জটিলতা রয়েছে আজও। তবুও মহাভারত যেন যুগ-যুগ ধরে এক দুর্বার আকর্ষণ প্রতিটি মানুষের অন্তরেই। তাই আজও ঘুরে-ফিরে মহাভারতকে দেখার চেষ্টা করা হয় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। অবশ্য তার বড় কারণও হলো, এই অতি প্রাচীন কাহিনি আজও একই রকম প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে।
বিজয়লক্ষ্মী বর্মণের অভিনয়ে ও সংস্থার আয়োজনে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস–এ, আগামী ২০ মে, প্রযোজনার প্রথম শো মঞ্চস্থ হচ্ছে। এই নাটকে মূলত ধরতে চাওয়া হয়েছে মহাভারতের বিভিন্ন মূল নারী চরিত্রগুলিকে। তা কেবল ঘটনা পরম্পরায় নয়, তাদের সম্পর্কের জটিলতা পরিণতি পায় তাদের লোভ, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতায়।
এসব নিয়েও তারা যে দোষে-গুণে ভরা মানুষ, যা সচরাচর প্রকাশ্যে উঠে আসে না। এই চরিত্রগুলির মধ্য দিয়েই ক্রমশ প্রকাশ পেয়েছে সেই সময়কার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং ক্ষমতা দখলের লোভ। তা কী ভাবে লেলিহান হয়ে উঠে গ্রাস করেছে সমস্ত ভারত-ভূখণ্ডকে। নাটকে নাট্যকার তুলে ধরতে পেরেছেন সত্যবতী, গান্ধারী, কুন্তি, দ্রৌপদী, ভানুমতী এবং হিড়িম্বাকে। এদের অনুষঙ্গেই নাটকে এসেছে কুন্তির পিতা, ঋষি দুর্বাসা, হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচ ও ভীষ্ম।
নাটকের বড় সম্পদ সংলাপ। যেমন- কুন্তি বলছে, ‘রাক্ষস রাক্ষসী নিজের স্বার্থে নিজের সন্তানকে হত্যা করে না। হত্যা করে মানুষ। নিজের স্বার্থে, সমাজের ভয়ে, রাষ্ট্রের ভয়ে। ....আমি যে তারই বিষফল।’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন দেবাশিস মজুমদার। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয়লক্ষ্মী বর্মণ। সঙ্গে শিশিক্ষুর কলাকুশলীরা।