নিয়মিত আসেন না কমিউনিটি হেলথ অফিসার বলে অভিযোগ (CHO)। ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হুগলি জেলার পাণ্ডুয়ার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন পড়লে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে জানালেন পাণ্ডুয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক তুষার মজুমদার।
পাণ্ডুয়ার শিখিরা চাপ্তা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাকরি গ্রামে রয়েছে এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পাকরি গ্রামের ওই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরিষেবা পান স্থানীয় চাপ্তা, রাধানগর, পাকরি, বেলে-সহ মোট পাঁচটি গ্রামের মানুষ। জানা গিয়েছে, এই পাঁচটি গ্রামে মোট ৬৬৪০ জন মানুষের বসতি রয়েছে। যারা সম্পূর্ণ ভাবে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপরে নির্ভরশীল। স্থানীয় প্রচুর মানুষকে সুগার, প্রেসার-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় এমন বহু ওষুধের জন্য এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরে নির্ভর করতে হয়। পাকরি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিষেবা না পেলে ওই এলাকার মানুষকে যেতে হয় ইটাচুনা স্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে, যা গরীব মানুষের পক্ষে খরচসাপেক্ষ বলে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে সিএইচও আসেন না। যার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ওষুধ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়।
পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মঞ্জুর আলম বলেন, ‘ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যিনি সিএইচও আছেন, তিনি মূলত গ্রামের মানুষদের পরীক্ষা করেন। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু ওষুধও দেন। যাতে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মানুষকে ব্লক বা জেলা হাসপাতালে যেতে না হয়। সপ্তাহে তিনদিন আসবেন বলেন, তাও আসেন না। তা সত্বেও পুরো বেতন দিতে হবে জোর করে।’
পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, ‘এই ঘটনা একেবারেই ঠিক নয়। তবে বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের সমস্যা এতদিন ধরে হয়ে আছে। এখন আর এসব চলবে না। প্রয়োজনে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব।’ যদিও এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচও অভিজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি।