• শৌচালয়যুক্ত মেমু ট্রেন ফিরছে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায়, কী বলছেন নিত্যযাত্রীরা?
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ বিভাগের শিয়ালদহ-লালগোলা রুটে নয়টি মেমু ট্রেন চলবে, যার প্রতিটিতে শৌচালয় থাকবে। ১২ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই জানিয়েছেন পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। শিয়ালদহ-লালগোলা মেমু, লালগোলা-রানাঘাট, রানাঘাট-লালগোলা, লালগোলা-শিয়ালদহ, শিয়ালদহ-লালগোলা, লালগোলা-শিয়ালদহ, শিয়ালদহ-লালগোলা, লালগোলা-শিয়ালদহ ও শিয়ালদহ-রানাঘাট মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানো হবে, যেখানে শৌচালয় বা টয়লেট থাকবে। এর পাশাপাশি কলকাতা-লালগোলা ও লালগোলা-কলকাতা রুটেও টয়লেটযুক্ত দুটো মেমু ট্রেন চলবে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫-র জুন থেকে 'মেমু' (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন তুলে নেওয়া হয়। তার বদলে পূর্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই রুটে 'ইআরএমইউ' (ইলেকট্রিক রেল মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওই ট্রেনে যাত্রী সাধারণের ব্যবহারের জন্য কোনও টয়লেট না থাকায় মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ বিক্ষোভ দেখান। চালক, গার্ড এবং টিটিই-দের সামনে প্রতীকী প্রতিবাদ দেখানো হয়।

    লালগোলা থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের ব্যবধান প্রায় ২২৮কিমি। ফলে মেমু ট্রেন তুলে নেওয়ার পরে 'ইআরএমইউ' ট্রেনের যাত্রীদের টয়লেট ব্যবহার করার প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ওই ট্রেনটিকে কৃষ্ণনগর জংশন স্টেশনে ৩০ মিনিটের জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। এখন ওই ৩০ মিনিটের মধ্যে ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীদের শৌচকর্ম সারতে হত তাড়াহুড়ো করে, যাতে ট্রেন ছেড়ে চলে না যায়! পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের এমন সিন্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বহরমপুর স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন বহরমপুরের বিধায়ক বিজেপি'র সুব্রত মৈত্র।

    এখন মেমু ফিরতেই খুশি লালগোলার নিত্যযাত্রীরা। এক যাত্রী রতন ঘোষ বলেন, 'শিয়ালদহ থেকে লালগোলার দূরত্ব প্রায় ২২৮ কিমি। বহরমপুর থেকে লোকাল ট্রেনে কৃষ্ণনগর যেতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময় টয়লেট না গিয়ে থাকা সম্ভব?’ এখন কৃষ্ণনগর স্টেশনে নেমে যাত্রী টয়লেটে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যে কী অবাস্তব, শেষ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছে। এখন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে অসুস্থ রোগীদের মেমু ট্রেনে যাত্রা করতে সুবিধে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)