তোলাবাজি-উস্কানির অভিযোগ, গ্রেপ্তার তিন তৃণমূল নেতা!
আজকাল | ১৪ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: একইদিনে রাজ্যের একাধিক জায়গায় গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতারা। বরানগরের তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটেছে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বরানগরের কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদারকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে ভাড়াটিয়া থেকে মূলত বিবাদের সূত্রপাত। ডাকা হয় সালিশি সভা। সেখানেও আঙুল ওঠে তৃণমূল নেতার দিকেই। পরবর্তীতে থানার দ্বারস্থ হন ওই মহিলা এবং লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয় শান্তনু ও তাঁর ভাই সাগর মজুমদার। বুধবার শান্তনু মজুমদারকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ। গ্রেপ্তার জামালপুরের দুই তৃণমূল নেতা। ভোট পরবর্তী হিংসা ও অশান্তি রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের। এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুরের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সূত্রের তথ্য তেমনটাই। ধৃতরা হলেন, বেড়ুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি এবং জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম নেতা তাবারক আলি মণ্ডল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জামালপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত হিংসা ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। তদন্তে উঠে আসে, ওই ঘটনাগুলিতে সরাসরি জড়িত থাকা এবং উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তদন্ত এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। সেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি দীর্ঘদিন ধরে বেড়ুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে তাবারক আলি মণ্ডল জামালপুর ব্লকের শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ১১৭(২), ১০৯(১), ৩৫২, ৩৫১(৩), ৩(৫) ধারার পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।
অন্যদিকে ১০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শিবশংকর ঘোষ ওরফে শিবু। তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, বর্ধমান থানার লোকো গোলঘর ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুকুল নন্দী গত ১২ মে বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, শিবশংকর ঘোষ তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে খুন করে দেওয়ার হুমকিও দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ৩০৮(৪), ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।অভিযোগকারী মুকুল নন্দীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণনাশের হুমকি এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হলে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, 'মিথ্যা অভিযোগে তৃণমূল নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিজেপির কথায়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবী খণ্ডন করে জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দে বলেন, কোন রং নয় অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবেন, এটাই তাঁরা চান।'