পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশে। ভোটপর্ব মেটার পর জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির জল্পনাও মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশবাসীর কাছে জ্বালানি বাঁচানোর আর্জি জানাচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবার বড় ঘোষণা করলেন। এবার থেকে উত্তরপ্রদেশের সাংসদ-বিধায়কদের একদিন করে গণপরিবহণে যাতায়াত করতে হবে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এবার থেকে মন্ত্রী এবং ভিভিআইপিদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। মঙ্গলবার থেকেই ওই নির্দেশিকা কার্যকর হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা মতো, পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে ও অন্যান্য স্তরে সাশ্রয় করার লক্ষে যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, সপ্তাহে অন্তত একদিন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সাংসদদের ‘নো ভেহিকল ডে’ পালন করতে হবে। ওইদিন কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বাসে-ট্রেনে যাতায়াত করতে হবে। যোগী সরকারের মূল উদ্দেশ্য সচেতনতা বৃদ্ধি হলেও একই সঙ্গে জ্বালানি সঞ্চয় করা যাবে বলেও দাবি করছেন প্রশাসনের কর্তারা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত দেশবাসীর। এর ফলে আমাদের শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, যুদ্ধের জেরে দেশে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব কমাতেও সাহায্য করবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার এখনও পর্যন্ত পেট্রোল, ডিজেল ও মধ্যবিত্তের রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও রিপোর্ট বলছে, আগামী ১৫ মে-র আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারে কেন্দ্র।
তার আগে নরেন্দ্র মোদির এই মিতব্যয়ী হওয়ার বার্তা কার্যকর করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি। একাধিক বিজেপি নেতা মন্ত্রী কনভয় থেকে গাড়ি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যোগী সরকারের নো ভেহিকল ডে পালন করাটা বেশ অভিনব ও চমকপ্রদ।