• জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া জ্যোতিষীকে বড় পদ, শুরুতেই শরিকি চাপে পিছু হটলেন বিজয়
    প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
  • রাজনীতির ময়দানে তাঁর এন্ট্রিটা হয়েছিল সুপারস্টারের মতো। বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ। বিধানসভায় হইহই করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ। সবটাই করলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে শুরুটা আশানুরূপ হল না বিজয়ের। তাঁর নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তগুলির অন্যতম ছিল, জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেটরিভেলকে নিজের ওএসডি পদে নিয়োগ করা। কিন্তু শরিকি চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হলেন বিজয়।

    তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটের পরে একটিমাত্র বুথফেরত সমীক্ষায় বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজগম’-কে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অনেককে বিস্মিত করে রাধন পণ্ডিত ভেটরিভেল নামের ওই জ্যোতিষী ভোটগণনার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিজয়ের দলই জয়ী হতে চলেছে। টিভিকের জয়ের পরও সবার আগে এই জ্যোতিষীই শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর ওই জ্যোতিষীকেই সম্মানিত করেন বিজয়। তাঁকে সোজা নিয়োগ করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি বা ওএসডি পদে। তাঁর মূল দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে পলিটিক্যাল ইকোসিস্টেমের সমন্বয় সাধন করা। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শরিক দল, দলীয় কর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সর্বোপরি জনতা।

    এই রাধন এমনিতে বেশ নামী জ্যোতিষী। জয়ললিতাও আস্থা রাখতেন তাঁর উপর। এমনকী বিজয়ের শপথের সময়ও তাঁর কথা অনুযায়ীই ঠিক হয়। কিন্তু এভাবে একজন আনকোরা জ্যোতিষীকে এত বড় পদে নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়ে যায়। ভোটের পর কংগ্রস, দুই বাম দল, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং ভিসিকে-র সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছে টিভিকে। কিন্তু রাধনের ওই পদোন্নতি নিয়ে বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা শুরু করে জোটসঙ্গীরাও। শেষে ‘অনভিজ্ঞ’ রাধনকে ওএসডি এবং ‘মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’ পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন বিজয়।

    উল্লেখ্য, বুধবারই তামিলনাড়ুয়ে আস্থা ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজয়। সবমিলিয়ে তাঁর পক্ষে ভোট পড়েছে মোট ১৪৪টি। বিজয়কে সমর্থন করেছেন জয়ললিতার দল এডিএমকে-র ‘বিদ্রোহী’ ২৫ জন বিধায়ক। তবে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন চার পিএমকে বিধায়ক এবং একজন বিজেপির বিধায়ক। আস্থা ভোটে অংশ নেয়নি এম কে স্ট্যালিনের দল ডিএমকেও।
  • Link to this news (প্রতিদিন)