রাজ্যে পালাবদলের পর অনেক কিছুই হচ্ছে যা অভিনব। অন্তত বঙ্গ রাজনীতিতে আগে দেখা যায়নি। সেই তালিকায় সংযোজন বিজেপির শুরু করা রিয়েল টাইম প্রমিস ট্র্যাকার। ভোটের আগে রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটা পূরণ হল, সেটা এবার থেকে রিয়েল টাইম ট্র্যাকারে দেখাবে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে বিজেপি সরকার যে বদ্ধপরিকর, সেটা বোঝাতেই এই উদ্যোগ বলে বঙ্গ বিজেপি সূত্রের খবর।
বস্তুত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে একপ্রকার প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেয় গেরুয়া শিবির। সমাজের প্রায় সব প্রান্তের সমস্যা, এবং সেগুলির সমাধানের উপায় উঠে আসে গেরুয়া শিবিরের সংকল্পপত্রে। শিল্প-সাহিত্য, সমাজ কল্যাণ, সংস্কার থেকে শুরু করে দুর্নীতি, তোলাবাজি রুখে দেওয়ার মতো বহুবিধ প্রতিশ্রুতি ছিল ওই ইস্তফাপত্র। আর সেগুলি যে স্রেফ কথার কথা নয়, সেটা বোঝাতেই সম্ভবত চালু করা হয়েছে ওই রিয়েল টাইম প্রমিস ট্র্যাকার। ভোটের আগে বিজেপি কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে কটি পূরণ হয়েছে, এবং কটি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ চলছে, সবটাই দেখা যাচ্ছে ওই পোর্টালে।
এই মুহূর্তে যেমন, https://bjp-govt-wb.pages.dev/ নামের ওই পোর্টালে লগ ইন করলে দেখা যাচ্ছে, ভোটের আগে মোট ১৪০টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। সেই ১৪০ প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটিও এখনও পূরণ হয়নি। তবে ১১টি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ চলছে। অর্থাৎ ৯ মে শপথ নিয়ে মাত্র ৫ দিনেই বড় বড় প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিজেপি। এমনকী বিজেপির হাতে যে আরও ৪ বছর ১১ মাস ২৫ দিন সময় রয়েছে ওই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য, সেটাও দেখানো হয়েছে ওই ট্র্যাকারে।
বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু, জনগণনা শুরু, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর মতো বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলুচাষীদের দুর্দশা ঘোচাতে সিদ্ধান্ত, দুর্নীতিতে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার মতো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সেগুলিরই উল্লেখ ওই ১১টি চলমান সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে। আসলে পুরো ট্র্যাকার চালুর উদ্দেশ্য একটাই, বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি রাখতে বদ্ধপরিকর এবং বঙ্গের গেরুয়া সরকার যে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে, সেটা জনতাকে বোঝানো।