তোলাবাজি, হুমকি, জোর করে ভাড়াটে বসানো! বরানগরে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর
প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
তোলাবাজি, হুমকি। বাড়ির মালিকের আপত্তি সত্ত্বেও ঘরে ভাড়াটে বসানোর অভিযোগ। গৃহবধূর অভিযোগে গ্রেপ্তার বরানগরের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ জানান মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বরানগর থানার পুলিশ। বুধবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। একই রাতে বরানগরের এক ওয়ার্ড সভাপতি-সহ আরও কয়েক জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও খবর।
অভিযোগকারী রিতা দে’র দাবি, রবীন্দ্রনগরের একটি তিনতলা বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিনের শরিকি বিবাদের সুযোগে গত ১৫ এপ্রিল তাঁদের বাড়িতে জোর করে ভাড়াটে ঢোকানো হয়। বাধা দিলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। আতঙ্কের জেরে তখন থানায় যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। গৃহবধূর আরও অভিযোগ, সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর কয়েক দফায় মোট ৭০ হাজার টাকা নেন। তাঁর বক্তব্য, “জোর করে ভাড়াটে ঢোকানো হয়েছে, প্রতিবাদ করায় খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মিটমাটের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকার বদলের পর সাহস করে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।”
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু মজুমদার। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর দাবি ছিল, “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে।” আদালত চত্বরেও তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়। অভিযোগ প্রমাণ হলে জুতো মুখে নিয়ে এলাকা ঘুরব।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শহর তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ বর্ধনের দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত ছোট ছোট মামলায়ও নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির বরানগর-১ মণ্ডল সভাপতি মলি রায়ের কটাক্ষ, “ভয় কাটতেই এখন মানুষ থানায় অভিযোগ জানাচ্ছেন। পুলিশও আইন মেনেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।”