• পুরুলিয়ায় তৃণমূলের বৈঠকে গরহাজির ২ প্রার্থী! অনুপস্থিতির দীর্ঘ তালিকা ঘিরে জল্পনা
    প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
  • আশঙ্কাই সত্যি হল। নির্বাচনে ভরাডুবির পর পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের পর্যালোচনা বৈঠকে গরহাজির থাকলেন দুই প্রার্থীই! অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ জন জেলা পরিষদ সদস্য। তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্যদের অনুপস্থিতির তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় জল্পনা বাড়ল জেলার রাজনৈতিক মহলে। ওই সদস্যের মধ্যেই অর্থাৎ ৯ জন কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ২ জন। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশ অনুপস্থিত থাকায় আগামী সোমবার পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূলের দলনেতা জেলা পরিষদের সদস্যদের আলাদাভাবে বৈঠক ডেকেছেন।

    এদিনের পর্যালোচনা বৈঠক থেকে যা উঠে আসে তাতে গোষ্ঠী ও লবি বাজিতেই অর্থাৎ একে অপরের সঙ্গে হিংসাতেই এই জেলার ৯ তৃণমূল প্রার্থী হেরে বসেন। তবে ব্লক ভিত্তিক আরও কি কি কারণ রয়েছে তা ব্লক সভাপতিদের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হবে। যে দুই প্রার্থী গরহাজির ছিলেন তাঁরা হলেন মানবাজারের তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু ও কাশীপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা দলের রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া। অনুপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের দুই কর্মাধ্যক্ষ অজিত বাউরি ও নমিতা সিং মুড়া । পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “হারের কারণ কি তা জানতে আমরা ব্লকভিত্তিক রিপোর্ট নেব। এদিনের বৈঠকে ব্লকের কোন সভাপতি ছিলেন না। বৈঠক থেকে এটাই বার্তা দেওয়া হয়েছে গণতন্ত্রে এমনটা হয়ে থাকে। কেউ ক্ষমতায় আসবে। কেউ বিরোধী দলে। দীর্ঘদিন আমরা বিরোধী দলে ছিলাম। ফলে কোন চিন্তার কারণ নেই। রাজনৈতিক কার্যকলাপের মধ্য দিয়েই আবার আমরা ফিরে আসব।”

    জেলা তৃণমূলের তরফে এমন কথা বলা হলেও কতখানি কার্যকর হবে তা বলা মুশকিল। কারন এদিনের বৈঠকে সকলের মধ্যেই দেখা যায় হতাশা।ঘুরে দাঁড়ানো বলতে যা বোঝায় সেই ছবি না দেখা গিয়েছে পরাজিত প্রার্থীদের চোখে মুখে। না অন্যান্য নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে। তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ৪২ জন। তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৮ জন। ২৪ জন ছিলেন অনুপস্থিত। এ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। সেই কারণেই তড়িঘড়ি আগামী সোমবার আলাদাভাবে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্যদেরকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়।

    ইতিমধ্যেই এই জেলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছু জেলা পরিষদের সদস্য তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদিও বিজেপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃণমূলের কোন নেতাকেই তাদের দলে নেওয়া হবে না। এছাড়া জেলা পরিষদ গুলিতে প্রশাসক বসতে পারে এমন জল্পনাও রয়েছে। এদিনের বৈঠকে গরহাজির নিয়ে মানবাজারের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুকে ফোন করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। তাঁর স্বামী, পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, জেলা নেতৃত্বের বৈঠকের বিষয়ে তার কোন জানা নেই। কাশীপুরের প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, জেলা পরিষদের সদস্যদের বৈঠক ছিল। তাই আমি যাইনি।” বহু তৃণমূল নেতার অভিযোগ, হারের পরেও পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের শিক্ষা হচ্ছে না। পর্যালোচনা বৈঠকের কথাও আগাম জানানো হচ্ছে না। সবে মিলিয়ে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল আরও ছন্নছাড়া।
  • Link to this news (প্রতিদিন)