• যোগীরাজ্যের ধাঁচে বুলডোজার অ্যাকশন খাস কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই ভাঙা হচ্ছে তিলজলার অবৈধ নির্মাণ
    প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই তিলজলা এলাকায় নামল বুলডোজার। শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বুধবার জানান, ১ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। এই নির্দেশ দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) যৌথ উদ্যোগে তিলজলায় দু’টি বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করল। বাড়ি ভাঙার জন্য ৪-৫টি বুলডোজার আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও একাধিক শ্রমিক বাড়ি ভাঙার কাজ করছেন। নির্মাণ ভাঙার কাজ চলাকালীন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আসেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। 

    এদিন কয়েকজন বাসিন্দা বিল্ডিং ভাঙার কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। এলাকা কার্যত ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    মঙ্গলবার তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের চারতলা একটি বিল্ডিংয়ের দোতলায় চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আশঙ্কাজনক আরও পাঁচজন। এই ঘটনার পরই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে রাজ্য সরকার। বুধবার সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে জমা পড়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যে চারতলা বিল্ডিংয়ের আগুন লেগেছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এই বিল্ডিংয়ের কোনও বৈধ প্ল্যানও নেই। শুধু তাই নয়, কারখানার মধ্যে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও তদন্তে উঠে আসে। এরপরই এই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই অবৈধ কারখানার মালিক-সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবিষয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যে কোনও দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করবে রাজ্য সরকার। বিল্ডিং প্ল্যান না থাকলে বিচ্ছিন্ন করা হবে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ। পাশাপাশি তিলজলার ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙারও নির্দেশ দেন তিনি। এই নির্দেশের কয়েকঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন শুরু করল কেএমসি ও কেএমডিএ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)