খুচরো জীবন। তবে সমস্যা খুচরো নয়। খুচরো নিয়েই যত সমস্যা। খোদ রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশ ছিল। অভিযোগ, তার পরেও খুচরো নিতে অস্বীকার করেছিল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বালুরঘাট শাখা। ক্ষোভে মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের সংবাদপত্র বিক্রেতা মাধব মৈত্র। শেষ পর্যন্ত বুধবার মামলায় জিতলেন তিনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন।
সাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করেন মাধব। খুচরো নিয়েই তাঁর কারবার। সেটাই যে তাঁকে সমস্যায় ফেলবে কে ভেবেছিল? ২০২৩-এর ডিসেম্বর বিক্রিবাটার ৫০০ টাকা নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন ব্যাঙ্কে। কিন্তু সবই খুচরো। ২ টাকার কয়েন। এত পয়সা গুনবে কে? অভিযোগ, ব্যাগ ভর্তি খুচরো দেখে বেঁকে বসেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সাফ জানিয়ে দেন, এত খুচরো তাঁরা নিতে পারবেন না। মাধবও নাছোড়। খুচরো তিনি জমা দেবেনই। সেই নিয়ে কথা কাটাকাটি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সব খুচরো ভর্তি ব্যাগ নিয়েই ফিরতে হয় মাধবকে। অভিযোগ, একবার নয়, একাধিক বার এমনটা হয়েছে তাঁর সঙ্গে।
এর পরেই বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানাতে শুরু করেন মাধব। যেখানে সম্ভব সেখানে। কনজ়িউমার অ্যাফেয়ার্স দপ্তরেও যান। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ। শেষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন তিনি। মাধবের কথায়, ‘আমি সাধারণ মানুষ। ব্যবসা করে খাই। ব্যবসার টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বার বার ফিরিয়ে দেয়। শেষে বাধ্য হয়ে আইনের দ্বারস্থ হই। অবশেষে ন্যায় বিচার পেলাম।’
ন্যায় পেয়েছেন মাধব। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁকে যেন ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া হয়। মাধবের আইনজীবী শিবতোষ চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘সংবাদপত্র বিক্রি করায় তাঁর কাছে খুচরো পয়সাই বেশি থাকে। কিন্তু ব্যাঙ্ক সেই টাকা নিতে অস্বীকার করে তাঁকে হয়রানি করেছে। দীর্ঘ শুনানির পরে মাধবের পক্ষেই রায় দিয়েছে কমিশন।’
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের রেজিস্টার প্রতীক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিচারক কোটের প্রেসিডেন্ট মনোজ কুমার ও সদস্য গ্রীতি বসাক আগরওয়ালেরা সমস্ত বিষয়ে বিবেচনা করেই এই নির্দেশ দিয়েছেন।’ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁরা জানিয়েছেন, মামলার কপি হাতে পেলে তাঁরা বিষয়টি দেখবেন।