• বিজেপির অভিনব 'প্রমিস ট্র্যাকার'?
    আজকাল | ১৪ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বঙ্গ রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সর্বত্র। কিন্তু সেই পরিবর্তনের তালিকায় এবার যুক্ত হল এমন এক বিষয়, যা এ রাজ্যের রাজনীতির ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। ভোটের আগে জনতাকে দেওয়া ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতির কথা কি সরকার মনে রাখে? সেই প্রশ্ন যখন সাধারণ মানুষের মনে ভিড় করে, তখনই এক অভাবনীয় স্বচ্ছতার নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। চালু করা হলো— 'রিয়েল টাইম প্রমিস ট্র্যাকার'। ভোটের আগে দেওয়া ইস্তফাপত্র বা ‘সংকল্পপত্রে’র কত শতাংশ বাস্তবায়িত হল, তা এবার সাধারণ মানুষ নিজের চোখে মোবাইলের স্ক্রিনেই দেখতে পাবেন। বিজেপি সূত্রে খবর, সরকার যে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় নয়, বরং তা পালনেও ১০০ শতাংশ বদ্ধপরিকর, সেই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই এই ডিজিটাল পোর্টাল আনা হয়েছে।

    এই পোর্টালটির সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে এর স্বত্বাধিকার বা পরিচালনার ধরনে। সাধারণত যেকোনও ট্র্যাকার সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বা রাজনৈতিক দলের আইটি সেল পরিচালনা করে। কিন্তু [https://bjp-govt-wb.pages.dev/](https://bjp-govt-wb.pages.dev/) নামের এই পোর্টালে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এটি কোনও সরকারি বা দলীয় ওয়েবসাইট নয়। বরং পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ওয়েবসাইটটি পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার দ্বারাই চালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থাৎ, সরকার কী কাজ করছে আর কী করছে না, তার হিসেব কোনও রাজনৈতিক নেতা দেবেন না, বরং সাধারণ মানুষই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রিয়েল টাইমে এই খতিয়ান আপডেট করবেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই অভিনব পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

    সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি একটি অনলাইন রিপোর্ট কার্ড। পোর্টালটি খুললেই জ্বলজ্বল করছে কাজের খতিয়ান। ভোটের আগে শিল্প থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন, সমাজকল্যাণ থেকে কৃষি— সমস্ত ক্ষেত্রে বিজেপি মোট ১৪০টি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমানে এই ট্র্যাকারটি থেকে জানা যাচ্ছে, ১৪০টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১১টি কাজের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যেহেতু ৯ মে শপথ গ্রহণের পর মাত্র ৫ দিন সময় অতিবাহিত হয়েছে, তাই কোনো কাজই এখনো সম্পূর্ণ হওয়ার তালিকায় নেই। তবে পোর্টালে কাউন্টডাউন দিয়ে দেখানো হয়েছে যে, দেওয়া কথা পূরণ করার জন্য সরকারের হাতে এখনো ৪ বছর ১১ মাস ২৫ দিন সময় রয়েছে।

    শপথ নেওয়ার পর থেকেই রীতিমতো ‘অ্যাকশন মোডে’ রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তিনি রাজ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে রাজ্যে দীর্ঘদিনের বকেয়া জনগণনা শুরু করা এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর ঘোষণাও করে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ছিল চমক। বিশেষ করে আলুচাষিদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং গত কয়েক বছরের দুর্নীতিতে যুক্ত অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রতিটি পদক্ষেপই এখন জনগণের দ্বারা চালিত ওই রিয়েল টাইম ট্র্যাকারে ‘চলমান কাজ’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সরকার গড়ার পর প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি কেবল সভা-সমাবেশেই শোনা যায়। কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে সেকেন্ডে সেকেন্ডে কাজের হিসেব দেওয়া এক প্রকার চ্যালেঞ্জের সামিল। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত নজরদারি পদ্ধতি বিরোধী পক্ষের সমালোচনার পথও অনেকটাই বন্ধ করে দেবে। বাংলার মানুষ চিরকালই রাজনীতির বাগাড়ম্বর শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু নবনির্বাচিত সরকারের ওপর জনগণের এই সরাসরি নজরদারি এক নতুন বার্তা নিয়ে যাচ্ছে— সরকার কেবল কাজ করছে না, জনগণের কাছে তার প্রতিটি পদক্ষেপের দায়বদ্ধতাও স্বীকার করছে। এখন দেখার, আগামী পাঁচ বছরে আমজনতার চালিত এই পোর্টালে ১৪০টি প্রতিশ্রুতির কাটা কত দ্রুত সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়।
  • Link to this news (আজকাল)