সামশেরগঞ্জের হিংসার ঘটনায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল আদালত। বলরাম পাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এবং মারধরের মামলায় ১২ জন অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে আদালত।
পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আবার দোষীদের মধ্যে পাঁচজন রয়েছে যারা হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তারা খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সামশেরগঞ্জ থানার তদন্তে উঠে আসে, হিংসার সময় একটি পরিবারের উপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল। অভিযোগ, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়। বুধবার সেই মামলারই শুনানি দিল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ আইন সংশোধনীর প্রতিবাদে গত ২০২৫ সালের ১১ মে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ থানা। সেদিন পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখায় প্রতিবাদীরা। অবাধে চলে ভাঙচুর। পরদিন ১২ মে উত্তাপের আঁচ গিয়ে আছড়ে পড়ে সামশেরগঞ্জে। আন্দোলনকারীরা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনায় তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় জড়িতরা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছে। আবার ১২ মে হিংসার সময় আন্দোলনকারীরা সামশেরগঞ্জের রানিপুর গ্রামের বলরাম পাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চড়াও হয়। বাবা বলরাম পাল ও ছেলে রঞ্জিত পালকে ঘরে আটকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টায় বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় ছেলের সঙ্গেই বাড়িতে ছিলেন বলরাম ঘোষ। বাবা-ছেলে গুরুতর জখম হলেও দু’জনে প্রাণে বেঁচে যান। আদালত জানিয়েছিল, ঘটনাটি রাজনৈতিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই ঘটেছিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ আগুন লাগানো ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানির পর পুলিশ জেলা ও জেলার বাইরে ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবার সেই মামলাতেই ১২ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের জেলের নির্দেশ দিল আদালত।