• কর্নাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর হিজাব পরায় বাধা নেই, বিজেপির আমলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার কংগ্রেসের
    প্রতিদিন | ১৪ মে ২০২৬
  • প্রায় চার বছর পর হিজাব পরার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠছে কর্নাটকে। এবার সরকারিভাবে বিবৃতি জারি করে সিদ্দারামাইয়ার কংগ্রেস সরকার জানিয়ে দিল, এবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহিলাদের হিজাব পরে যাওয়ায় আর কোনও বাধা রইল না। তবে শুধু হিজাব নয়। একই সঙ্গে একাধিক ধর্মীয় প্রতীক বা নিশান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরার অনুমতি দিল কংগ্রেস সরকার।

    বুধবার কর্নাটক সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, এবার থেকে সব সরকারি স্কুল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয় এবং বেসরকারি স্কুলে এমনকী প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের কলেজগুলিতেও হিজাব, গেরুয়া স্কার্ফের মতো কিছু ধর্মীয় নিশান রাখায় বাধা নেই। তবে অবশ্যই একই সঙ্গে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পোশাকবিধিও মানতে হবে পড়ুয়াদের। যে সব পড়ুয়া ধর্মীয় পোশাক পরে আসতে ইচ্ছুক, বা ধর্মীয় প্রতীক সঙ্গে রাখতে ইচ্ছুক, তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিধি মেনেই ওই ধর্মীয় পোশাক পরতে হবে।

    তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুধু হিজাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা-ই নয়। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, পৈতে, রুদ্রাক্ষ, শিবধড়া এবং শরবস্ত্রতেও। এই সবগুলিই ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মের প্রতীক। অর্থাৎ সুকৌশলে ওই নির্দেশিকাকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করল কংগ্রেস সরকার। যদিও বিজেপি পুরোটাকেই আইওয়াশ বলছে।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কর্নাটকে বিজেপি সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিএস বোম্মাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এহেন নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয় কর্নাটক হাই কোর্টে। সেখানেও নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষেই নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মামলা পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের রায়েও হাই কোর্টের নির্দেশই কার্যত মান্যতা পেয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করেন ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হবে। অবশেষে এতদিন বাদে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল কংগ্রেস।
  • Link to this news (প্রতিদিন)