• কয়লা-বালি পাচার আর নয়, কঠোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: কয়লা–বালি–পাথর খাদানের বেআইনি কারবারের সঙ্গে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল ও পুলিশ–প্রশাসনের একাংশের যোগের অভিযোগ গত কয়েক বছরে বারবার উঠেছে। অনেকগুলি ঘটনায় সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি তদন্তও চালাচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে আর এই সব বেআইনি কারবারের কালি যাতে সরকারের গায়ে না–লাগে, তা প্রথম থেকেই নিশ্চিত করতে চায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন।

    রাজ্যে অবৈধ কয়লা, বালি খাদান অথবা স্টোন–ক্রাশার বন্ধে বুধবারই অ্যাকশন মোডে নামল সরকার। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ, বেআইনি খাদানের কারবার থেকে যে রাজস্ব ক্ষতি হতো, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ দিন এই মর্মে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সচিবদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ভিত্তিতে এ দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সব জেলাশাসকের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন, তাঁদের জেলায় কতগুলি অবৈধ কয়লাখনি রয়েছে। তার বিস্তারিত তথ্য–সহ তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত এ নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের।

    সরকারি সূত্রের খবর, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, রানিগঞ্জ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূমের একাংশে দীর্ঘকাল ধরে রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলের মদতে বেআইনি কয়লার খাদান চলছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও এই সব বেআইনি খাদান থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ করা যায়নি। এই অবৈধ কয়লা কাদানের পাশাপাশি পরিত্যক্ত খনি থেকেও অবৈধ ভাবে কয়লা তোলা হয়, যাতে পরিবেশগত সমস্যা তৈরি করছে। বহু দুর্ঘটনা ঘটছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনপদ, সড়ক। মুখে বললেও রাজ্য সরকার এই কয়লার এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে সরকারি রাজস্ব ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, কয়লা খনি থেকে বেআইনি ভাবে কয়লা পাচারের মামলায় ইসিএলের প্রাক্তন কয়েকজন আধিকারিক–সহ অনেককে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গ্রেপ্তারও করেছিল। সেই মামলা এখনও কোর্টে বিচারাধীন।

    আবার বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মেদিনীপুরের মতো অনেক জেলায় বেআইনি ভাবে বালি খাদানের কারবার চলছে। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে জাল চালান তৈরি করে বরাদ্দের থেকে অনেক বেশি পরিমাণ বালি বেআইনি ভাবে সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল। তার ফলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই কথা প্রযোজ্য বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রামের বেআইনি স্টোন ক্রাশার ইউনিটের ক্ষেত্রেও।

    এ সব নিয়ে বারবার পরিবেশকর্মীরাও সরব হয়েছেন। ফলে নতুন সরকারের নির্দেশে খুশি তাঁরাও। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তন মুখ্য আইন আধিকারিক তথা পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘রাজ্যে বর্তমানে বেআইনি পাথর খাদান, বালি খাদান, ইটভাটা সংখ্যায় অনেক বেশি। সেই কারণে রাজ্য সরকার যেমন রাজস্ব পায় না, তেমনই এই সব জায়গায় কেউ মারা গেলে তাঁর পরিবারকেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। মেলে না পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ।’

    তাঁর সংযোজন, ‘নতুন সরকার এই সব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে, সেটা ভালো কথা। তবে, সেই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করার জন্য সরকার দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করবে সেটাই চাইব।’ শুধু পরিবেশগত দিক থেকে নয়, বেআইনি পাথর, বালি, কয়লার ওভারলোডিংয়ের জন্য রাস্তার অবস্থাও বেহাল হচ্ছে। অতীতে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রবণতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরেও তাতে রাশ টানা যায়নি।

    তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নবান্নে বিধায়কদের উপস্থিতিতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের জানিয়ে দিয়েছেন বেআইনি কয়লা ও বালি খাদান বন্ধ করতেই হবে। রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এমন কিছু বরদাস্ত করা হবে না। যেখানে ১০০ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়া সম্ভব, সেখানে কোনও ভাবেই ৯৯ টাকায় থেমে গেলে হবে না। এরপরেই নবান্ন বেআইনি বালি, কয়লা, পাথর ও অন্যান‍্য খন‍িজ অবৈধ ভাবে উত্তোলনে রাশ টানার কাজে সক্রিয় হলো।

  • Link to this news (এই সময়)