দিল্লিতে চলন্ত প্রাইভেট বাসের ভিতরে ফের তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ। ২৬-এর রাজধানীতে ফিরল ২০১২-এর নৃশংস নির্ভয়াকাণ্ডের স্মৃতি। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে দিল্লির রানিবাগ এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিতার অভিযোগ, একটি প্রাইভেট বাসের ভিতরে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। সোমবার রাতে তিনি কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়েই ঘটে ওই ঘটনা। সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ডে তিনি একটি প্রাইভেট বাসকে থামান। কিন্তু বাসে ওঠার পরেই সবকিছু বদলে যায়। নির্যাতিতার কথায়, চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে জোর করে বাসের ভিতরে টেনে নিয়ে যায় এবং এর পরে সারারাত ধরে তাঁর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভোরের দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর পরেই নির্যাতিতা তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ এবং অভিযুক্ত বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাসটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। বাসে সেই সময়ে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, ঘটনাস্থল কোথায়, বাসের রুট কী ছিল, সিসিটিভি ফুটেজে কী ধরা পড়েছে— সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদেরও।
বর্তমানে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতা তরুণী বিবাহিতা এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ঘটনার পরে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই আবারও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজধানীতে। বিশেষ করে চলন্ত বাসে নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় অনেকের মনেই ফিরে এসেছে ২০১২ সালের বহুচর্চিত নির্ভয়াকাণ্ডের স্মৃতি। চলন্ত বাসের ভিতরে এক তরুণীকে নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। বেধড়ক মারধর ও অত্যাচারের পরে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে রাস্তায় ফেলে পালায় অভিযুক্তরা। ঘটনায় মৃত্যু হয় নির্যাতিতার। সেই ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। কিন্তু এত বছর পরেও দিল্লিতে নারী সুরক্ষা কতটা ঠুনকো তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সাম্প্রতিক এই ঘটনা।