• নিয়োগ দুর্নীতি: আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, CBI-কে ছাড়পত্র
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাড়া ফেলা অভিযোগগুলির মধ্যে অন্যতম–– নিয়োগ দুর্নীতি। গত দু’বছর বছর ধরে বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতির ইস্যু। এর জেরে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছে। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক ঝাঁক কর্তা। সেই সময় থেকে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, পুরো দুর্নীতিতে কি মন্ত্রী-কর্তারাই যুক্ত? দপ্তরের আধিকারিক বা আমলাদের কি কোনও ভূমিকাই ছিল না?

    নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিকদের জানান, দুর্নীতির মামলাগুলিতে আমলা ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য যে সরকারি ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়, তা দেয়নি আগের সরকার। বুধবার ওই মামলায় অভিযুক্ত তথা দোষী আমলা ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে সিবিআই-কে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় সমিতিতে তহবিল তছরুপ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে যে সব মামলা আদালতের নির্দেশে দায়ের হয়েছে, সেগুলিতেও দোষী অফিসার-আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্তে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এ দিন। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় কিছু আমলা আধিকারিককে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারেনি। নবান্নের অফিসারদের একাংশের মত, সরকারি ছাড়পত্র মেলায় সিবিআই ওই মামলাগুলির ক্ষেত্রে নতুন করে পদক্ষেপ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আমলা বা অফিসারের যোগসূত্র মিললে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে আর বাধা থাকবে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তবে এত দিন পরে নতুন করে প্রয়োজনীয় নথি বা প্রমাণ তাঁদের বিরুদ্ধে মিলবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন আমলাদেরই একাংশ।

    নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে যে কথাটি মন্ত্রী আমলাদের মুখে গত কয়েকদিনে বারবার শোনা গিয়েছে, তা হলো ‘জ়িরো টলারেন্স’। বুধবারও নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের দল প্রচারের শুরু থেকে বলে এসেছে, সরকার ‘জি়রো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে যে সমস্ত আমলা এবং আধিকারিকরা অভিযুক্ত বা সন্দেহের তালিকায় ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের ক্ষেত্রে সরকারি যে ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়, তা আগের সরকার দেয়নি।’ তাঁর সংযোজন, ‘আরও স্পষ্ট করে বললে আগের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা আটকে রেখেছিলেন। ফলে দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেক অফিসারের বিরুদ্ধে সিবিআই আইনি পদক্ষেপ করতে পারছিল না।’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেই অনুমতি আজ দেওয়া হলো। মানুষ যে আশা নিয়ে এই সরকারকে এনেছে, সেই কাজ করা হবে।’

    শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ দুর্নীতি, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে কর্মী নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দপ্তরের তহবিল তছরুপ এবং অন্যান্য দুর্নীতিতে আদালতের নির্দেশে যে তদন্ত চলছে, সেগুলির তদন্তভার আজ থেকে সিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। তার ফলে যে সমস্ত আমলা এবং আধিকারিকেরা এই দুর্নীতিগুলিতে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই এ বার তদন্ত করতে পারবে। আগের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের বাঁচাতে তদন্তের ছাড়পত্র আটকে রেখেছিল। আমরা সেই অনুমতি দিলাম।’

    প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি আধিকারিক বা আমলার বিরুদ্ধে তদন্ত বা চার্জশিট জমা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অনুমতি বা ‘স্যাংশন ফর প্রসিকিউশন’-এর প্রয়োজন হয়। সেই অনুমতি মিললে তবে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া যায়। এতদিন বেশ কয়েকটি দপ্তরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে সেই প্রক্রিয়া আটকে ছিল। এ দিন সেই ছাড়পত্র দিল রাজ্য। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তদন্তের ছাড়পত্র দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে, তিনি চাইছেন দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছন তদন্তকারীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর ফলে আগামী দিনে অনেক প্রভাবশালী আমলা ও আধিকারিকের অস্বস্তি আরও বাড়বে।

  • Link to this news (এই সময়)