শ্যামগোপাল রায়
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই শহরজুড়ে হেলমেটবিহীন বাইকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সক্রিয়তা শুরু করল কলকাতা পুলিশ। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র আড়াই দিনে ৩৩০২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে লালবাজারের দাবি। সূত্রের খবর, ট্র্যাফিক আইন ভাঙার এই তালিকায় পুলিশের সদর দপ্তর সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে সংযোজিত এলাকার বাইক— বাদ পড়ছে না কেউই।
রাজ্যে পালাবদলের পরে সোমবার নবান্নে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, রাস্তায় হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত দু’দিনের পরিসংখ্যান বলছে, সবথেকে বেশি কড়াকড়ি চলছে লালবাজার সংলগ্ন হেডকোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ড এলাকায়। সেখানে মামলার সংখ্যা ৩৭২।
এ ছাড়াও মেটিয়াবুরুজ, এন্টালি, কসবা এবং বন্দর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। বিশেষ করে ভাঙড় ও কসবা এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছে ‘নাকা চেকিং’। লালবাজারের এক কর্তা জানান, পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার, এন্টালি, শ্যামবাজার ও গড়িয়াহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চলছে। হেলমেট না থাকলে যে অজুহাতই দেওয়া হোক না কেন, তা কানে না তোলার কথা বলা হয়েছে ট্র্যাফিক গার্ডকে। শুধু জরিমানা নয়, স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা নিশ্চিত করার বার্তাও দিয়েছে লালবাজার।
সরকারি সূত্রে খবর, কলকাতায় ১২ লক্ষ ১ হাজার ৩১২ জন মোটরবাইক ব্যবহার করেন। গত বছর নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে বিনা হেলমেটে ধরা পড়ে জরিমানা দিতে হয়েছে ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬১৭ জন চালককে। এদের মধ্যে একই চালক একাধিকবার জরিমানা দিয়েছেন। পুলিশের হিসেব মতো, শহরে প্রায় ৪০ শতাংশ চালকই বিগত সরকারের আমলে হেলমেট পরতেন না। অথচ, গত বছর ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে চালকের হেলমেট না থাকাই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল।
তৃণমূল জমানায় কলকাতার বিভিন্ন ট্র্যাফিক গার্ডে দিনে গড়ে ২০-৩০ জন হেলমেটবিহীন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নবান্ন থেকে লালবাজারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হেলমেট ছাড়া বাইক চলাচল কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বুধবার রাতে বলেন, ‘হেলমেট ব্যবহার করলে বাইক দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলেও তাঁর ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ কিন্তু কিছু হবে না, এই ভাবনা থেকেই অনেকেই হেলমেট পরেন না।’ লালবাজারের সিদ্ধান্ত, এখন সেটা আর চলবে না। বাইকে চালালে বা সওয়ারি হতে গেলে হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা।