• ‘মা ক্যান্টিনে’ মাছ-ভাত! পরিকল্পনায় নয়া সরকার, বদলাবে নামও?
    এই সময় | ১৪ মে ২০২৬
  • এই সময়: বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে— বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এই অভিযোগ তুলে বারবার গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ শাণিয়েছিল তৃণমূল। সেই কারণে ভোট প্রচারে অনেক প্রার্থীকেই হাতে আস্ত মাছ নিয়ে প্রচারে নামতেও দেখা গিয়েছে। ভোটের ফলে স্পষ্ট, এই প্রচারে সাধারণ মানুষ সে ভাবে সাড়া দেননি।

    ভোটের রেজ়াল্ট বেরনোর পরে আবার কলকাতা–সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গরিব–নিম্নবিত্ত মানুষদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘মা ক্যান্টিন’ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও নতুন সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, পুরোনো কোনও জলকল্যাণমুখী প্রকল্প তারা বন্ধ করবে না। এই আবহে কিছুটা ভোল বদলাতে পারে ‘মা ক্যান্টিনের’।

    সূত্রের দাবি, নতুন বিজেপি সরকার ‘মা ক্যান্টিনে’র মেনুতে ডিম-ভাতের বদলে মাছ-ভাত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এক প্রবীণ বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘ডিম নয়, আমরা মাছে–ভাতে বাঙালি। তবে নাম বদল করা হতে পারে মা ক্যান্টিনের। দামের পরিবর্তন না করে আপাতত ৫ টাকাই রাখার চিন্তাভাবনা চলছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি কৃষি বিপণন দপ্তরকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।’

    সাধারণ ভাবে এই ক্যান্টিনগুলি স্বনির্ভর গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হলেও ‘সুফল বাংলা’ থেকে প্রয়োজন মতো সস্তায় সবজি এবং রাজ্য সরকারের তরফে বিনামূল্যে চাল সরবরাহ করা হয় সেখানে। ভোটের রেজ়াল্টের পরে কিছু কিছু জায়গায় ‘মা ক্যান্টিন’ সাময়িক ভাবে বন্ধ হলেও জয়ী বিজেপি প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছেন, ফের সেগুলি চালু করা হবে। সূত্রের দাবি, সরকার গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চালু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে দুর্গাপুজো কমিটি এলাকায় শ্রমিকদের জন্য পাঁচ টাকায় দুপুরের ভাত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিল। ‘মা ক্যান্টিনে’ দুপুরে মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল ও ডিমের তরকারি বা ডিমসেদ্ধ দেওয়া হয়। প্রথমে মাত্র ৩২টি ক্যান্টিন নিয়ে চালু হয়েছিল ওই প্রকল্প। পরে ধাপে ধাপে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৯। মূলত সরকারি হাসপাতালের সামনে চিকিৎসার জন্য আসা গরিব মানুষ যাতে নামমাত্র খরচে দুপুরের খাবার পান, তার জন্যই এই ক্যান্টিন চালু করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)