• নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজস্থানের বিজেপি নেতা সহ পাঁচ
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপ অথবা সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কিংবা মেল আইডি ব্যবহার না করতে। তিনরকম রেট করা হয়েছিল। ১০ লক্ষ টাকা। ২০ লক্ষ টাকা। ৩০ লক্ষ টাকা। প্রকৃত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ৬০ শতাংশই মিলে যাবে এরকম গেস পেপার পেতে হলে দিতে হবে ৩০ লক্ষ টাকা। এতে মিলবে গেস পেপারের সরাসরি প্রিন্ট আউট। অর্থাৎ কোনও মোবাইল, ল্যাপটপ কিছুই ব্যবহার করে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকবে না। এক হাতে টাকা। অন্য হাতে প্রশ্নপত্রের প্রিন্ট আউট। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার, কেরল, জম্মু কাশ্মীর। আপাতত এই রাজ্যগুলির একাধিক শহরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার নেটওয়ার্ক পাওয়া গিয়েছে। সর্বপ্রথম যার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, সেই নাসিকের শুভম খেরনার নামক আয়ুর্বেদ ছাত্র ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে পুনে থেকে কিনেছিল গেস পেপার। সেটি সে বিক্রি করেছে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের এক এজেন্সিকে। ১৫ লক্ষ টাকায়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে উঠে আসছে বিজেপি যোগের তথ্য। রাজস্থানের জামওয়া রামগড়ের দুই ভাই মঙ্গিলাল ও দীনেশ বিওয়াল গত ২৬ এপ্রিল (পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে) গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ‘গেস পেপার’ কিনেছিল। দাম পড়েছিল ৩০ লক্ষ টাকা। দীনেশ বিওয়ালের ছেলে এবার নিটে বসেছিল। সেজন্য সে রাজস্থানের সিকরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৬ এপ্রিল গুরুগ্রামের ডাক্তারের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র কেনার পর বিওয়াল পরিবার ২৯ এপ্রিল সিকরের বহু পড়ুয়ার কাছে তা মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে বলে অভিযোগ।দীনেশ আবার রাজস্থানের বিজেপি নেতা। তাঁর সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় বহু বিজেপি নেতার ছবিও রয়েছে। গতবছরও দীনেশের পরিবারের চারজন নিট পাশ করেছিল। নিট কাণ্ডে রাত পর্যন্ত সিবিআই মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    সিকরের এমবিবিএস কাউন্সেলিং এজেন্ট রাকেশ কুমার মান্ডাওয়ারির হাতেও সেই প্রশ্নপত্র চলে আসে। সেখান থেকে অর্থের বিনিময়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই হাতবদল হতে হতে কেরলে ডাক্তারি পাঠরত এক ছাত্রের কাছে পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে সেই ‘গেস পেপার’ পৌঁছে যায়। ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার বাবা রাজস্থানের সিকরে ছাত্রীদের একটি হস্টেল চালান। পরীক্ষার আগের রাতেই ওই ডাক্তারি পড়ুয়া তাঁর বাবাকে হোটসঅ্যাপে সেই প্রশ্নপত্র পাঠান। সঙ্গে লেখেন, ‘বাবা, সিকরের এক বন্ধু এটা আমাকে পাঠিয়েছে। তোমার হস্টেলের ছাত্রীদের এটা দিয়ে দাও। কালকের পরীক্ষায় এই প্রশ্নগুলোই আসবে।’ ঘটনাচক্রে, সিকরের ওই হস্টেল মালিক প্রথমে পুলিশ ও পরে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এনটিএ-র কাছে অভিযোগ জানান। সেই সূত্রেই এবারের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। 

    সিবিআই দেখতে চাইছে ২০২৪ সালে ফাঁস হওয়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্রক্রিয়ার সঙ্গে ২০২৬ সালের ধাঁচের সাদৃশ্য কতটা। বুধবার দেশজুড়ে অভিযান চালায় সিবিআই। রাজস্থান স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করছে সিবিআই। গুরুগ্রামের এক ডাক্তার ৭০০ জনকে বিক্রি করেছে টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে। টেলিগ্রাম গ্রুপ খোলা হয়েছিল ‘প্রাইভেট মাফিয়া’ নামে। সেই গ্রুপে ৪০০ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পোর্টেবল স্ক্যানার, শ্যাডো সার্ভার ব্যবহার করা হয় নেটওয়ার্ককে একইসঙ্গে যুক্ত করার জন্য। কিন্তু প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে ল্যাপটপ অথবা সাইবার কাফে থেকে বিষয়টি কার্যকর করার জন্য। যাতে কারও মোবাইল ট্র্যাক করা না যায়। সিবিআই সন্দেহ করছে অনলাইন ডেটা ট্র্যান্সফারের পাশাপাশি ক্যুরিয়ার সংস্থাকেও কাজে লাগানো হয়েছে। অর্থাৎ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির প্রশ্নপত্রের ডেলিভারি ব্যবস্থাকেও ট্র্যাক করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)