• শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ অবশেষে বেওয়ারিশ লাশ সৎকার শুরু
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ১২৫টিরও বেশি বেওয়ারিশ লাশ জমে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। অবশেষে সেই মৃতদেহগুলি আইন মেনে সরিয়ে নিয়ে সৎকারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এজন্য শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের সময় থেকেই বেওয়ারিশ মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কার্যত কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান ডাঃ রাজীব প্রসাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে বারবার জেলা ও মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি উদ্যোগ নেন। তারপরেই প্রথম দফায় ৩৭টি এবং বুধবার আরও ১৫টি বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

    রাজীব প্রসাদের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর দায় এড়িয়ে যাওয়াতেই পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছিল। তিনি বলেন, সারা বছর ধরেই বেওয়ারিশ মৃতদেহ সরানোর জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয় আমাদের। কিন্তু সাড়া পেতে বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়। 

    এদিকে, দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপারের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, মর্গে থাকা তাদের প্রশাসনিক এলাকার অধীনে বেওয়ারিশ মৃতদেহ সরানোর পরিকাঠামো নেই। এই কাজের জন্য স্থানীয় পুরসভাকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে উদ্যোগ নিতে হবে। ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, পুলিশ সুপার চিঠি দিয়ে একথা জানালেও তা পুরসভা ও মেডিকেল কলেজের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ নেই। ফলে সমস্যার সমাধান এখনও অধরাই থেকে গেল। 

    মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মর্গের ফ্রিজার বিকল হয়ে পড়ায় মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই শেষপর্যন্ত শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
  • Link to this news (বর্তমান)