• মালদহে ভাঙন রোধকে অগ্রাধিকার, ১৯ মে বৈঠক করবেন জেলাশাসক
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • সন্দীপন দত্ত, মালদহ: মালদহে নদী ভাঙন রোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেওয়া হল জেলাশাসক রজনবীর সিং কাপুরকে।প্রশাসন সূত্রে খবর, এনিয়ে ১৯ মে বৈঠক ডাকতে চলেছেন তিনি। ভাঙন রোধে তৈরি করা হবে কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্প। গঙ্গায় কাটা হতে পারে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যানাল। একই সঙ্গে ড্রেজিং করা হতে পারে গঙ্গার ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন অংশেও। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিলতেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনই সরকারিভাবে মুখ খুলতে নারাজ মালদহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

    নদী ভাঙন মালদহের জ্বলন্ত সমস্যা। কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেই অর্থে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনটি বিধানসভায় ভাঙন পীড়িতের সংখ্যা এখন দু’লক্ষের বেশি। প্রত্যেক বছর ভাঙনে এই জেলার বহু মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হচ্ছেন। মানিকচক, রতুয়া এবং বৈষ্ণবনগরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক স্কুল, বাড়ি, জমি। ভাঙন রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্রের দায় ঠেলাঠেলিতে এবার ইতি পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। স্বাভাবিকভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশা দেখছেন মালদহবাসী। শপথগ্রহণের পর গত সোমবার সব জেলার ডিএম, এসপিদের নিয়ে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মালদহের ভাঙন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। 

    বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কিছু কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রথম তালিকায় রয়েছে মালদহের নদী ভাঙন সমস্যা। 

    মালদহের ভোট প্রচারে এসে নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এপ্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ভাঙন রোধে গঙ্গায় যে ক্যানাল করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে, সেখানে গঙ্গার শুধু পশ্চিমবঙ্গের অংশই থাকছে না, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের একটা বড় এলাকা রাখার ভাবনা রয়েছে। এর জন্য খরচ করা হতে পারে কয়েকশো কোটি টাকা। 

    মানিকচক বিধানসভার উত্তর চণ্ডীপুর অঞ্চলের বসন্তটোলা ও কালুটোনটোলা সহ দু’টি বুথ গত বন্যায় নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। নিশ্চিহ্ন হয়েছে গ্রামের একাংশ। কেশরপুরের একটি এলাকাও গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বাঁধে আশ্রয় নিতে হয়েছে অনেককে। এবার সুসময় আসবে বলে মনে করছেন দুর্গতরা।
  • Link to this news (বর্তমান)