• সরকার পরিবর্তনে বাঁকুড়া শহরে বন্ধ হল টোল আদায়
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে গেল বাঁকুড়া শহরের চারটি টোল ট্যাক্স কাউন্টার। বাঁকুড়া পুরসভা ওই চার টোল কাউন্টার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ট্যাক্স পেত। পুরসভার অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর কয়েকজন যুবক টোল ট্যাক্স কর্মীদের উপর চড়াও হয়। তারপর কর্মীরা টোল ট্যাক্স কাউন্টারে তালা মেরে বাড়ি চলে গিয়েছেন। ফলে বর্তমানে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুদার বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই টোল ট্যাক্স আদায় শুরু করেছিলাম। স্থানীয়দের একাংশ গন্ডগোল করার ফলে বর্তমানে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। টোল আদায়ের ফলে পুরসভার আয়বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছিল। এখন সবকিছু পন্ড হয়ে গেল। 

    ভাইস চেয়ারম্যান হীরালাল চট্টরাজ বলেন, পুর আইন অনুযায়ী আমরা নিজস্ব তহবিল পুষ্ট করতে কর আদায় করতে পারি। বোর্ড মিটিং ডেকে টোল ট্যাক্সআদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে এরমধ্যে কোনো অনিয়ম নেই। একইভাবে রাতে জঞ্জাল সফাই঩য়ের জন্য গৃহীত কর নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছে। তাও নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের কেরানিবাঁধ, সতীঘাট, কাটজুড়িডাঙা ও রাজগ্রাম সেতু সংলগ্ন এলাকায় ওই চার টোল ট্যাক্স কাউন্টার ছিল। পুরসভা সেখান থেকে অবশ্য সরাসরি টোল আদায় করত না। প্রতি বছর টেন্ডার ডেকে ওই চার কাউন্টার লিজে দেওয়া হত। বরাতপ্রাপ্ত এক বা একাধিক সংস্থা সেখান থেকে টোল আদায় করত। পুরসভাকে তারা প্রতি মাসে টাকা মিটিয়ে দিত। শুধুমাত্র পণ্যবাহী যানবাহন থেকেই কর আদায় করা হত। যানবাহন অনুযায়ী ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত টোল ট্যাক্স আদায় চলত। যাতায়াতের পথে দিনে একটি গাড়ি থেকে একবারই কর আদায় করা হত। ওই রসিদ দেখালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আর কর দিতে হত না। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, টোল ট্যাক্স আদায় নিয়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে নতুন সরকার ব্যবস্থা নেবে।

    পুরসভার তরফে রাতে জঞ্জাল সাফাইবাবদ অতিরিক্ত কর আদায় নিয়েও অনেকেই মুখ খুলেছেন। পুরসভার সাফাই গাড়ি রাত ৯টা নাগাদ শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহ করে থাকে। তারজন্য প্রতি মাসে ঠেলাগাড়ি ও ছোটো চা দোকান থেকে ৩০০ টাকা, মিষ্টির দোকান ও ছোটো হোটেল থেকে ৭০০ টাকা এবং বড় হোটেল বা রেঁস্তরা থেকে ১০০০ টাকা আদায় করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুর কর্তৃপক্ষ এমনিতেই নানা কর নিয়ে থাকে। তারমধ্যেই জঞ্জাল সাফাইয়ের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে রাতে আবর্জনা সাফাইয়ের জন্য এভাবে দোকান থেকে টাকা আদায় করা উচিত নয়। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর টোল ট্যাক্স ও রাতের জঞ্জাল সাফাই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। পুরসভার তরফেও পালটা নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধির সাফাই দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের জেরে এমনিতেই পুরসভার ‘হাঁড়ির হাল’ হয়েছে। হঠাৎ কর আদায় বন্ধ হয়ে গেলে কোষাগারে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে পুরসভার অর্থ বিভাগের আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন।  বন্ধ টোল প্লাজা। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)