তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী বলছে RSS?
আজ তক | ১৪ মে ২০২৬
আরএসএস নিজেদের 'ছেলে' শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে গর্বিত। এই পরিবারের অংশ হতে তাঁকে কোনও সদস্যপদের ফর্মে সই করতে হবে না। অন্য দল থেকে বিজেপিতে এসে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে এমনটাই জবাব দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবলে।
তিনি বলেন, 'সবাই যে ছোটবেলায়ই আরএসএসে যোগ দেয় না। অনেকেই পরে আরএসএসে যোগ দেন।' মাথায় রাখতে হবে, বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সময় তৃণমূল করতেন। সেই সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। তারপর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী।
কী প্রশ্ন করা হয়েছিল হোসবলেকে?
শুভেন্দু অধিকারী, সম্রাট চৌধুরী এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নেতারা অন্য দল থেকে বিজেপিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এই প্রবণতা আরএসএসকে বিরক্ত করে নাকি আনন্দ দেয়? এই প্রশ্নের উত্তরে সঙ্ঘের এই শীর্ষ নেতা বলেন, 'আমরা খুশি, বিজেপি বাড়ছে। এর অর্থ, এই দলটি আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।'
নতুন করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের আরএসএসেও যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে হোসবলে জানান, এই সব নেতারা ইতিমধ্যেই আরএসএসের অংশ। তাঁরা আরএসএসের মতাদর্শগত পরিবারের অংশ।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আরএসএস-এর কোনও আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নেই। আমিও কোনও আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ গ্রহণ করিনি। আরএসএস একটি পারিবারিক ব্যবস্থার মতো। তাই যেই এই পরিবারে প্রবেশ করে, সেই তার অংশ হয়ে যায়।'
তাঁর আরও বক্তব্য, 'একজন পুত্রবধূ যখন একটি পরিবারে আসেন, তখন তাঁকে কোনও ফর্ম পূরণ করতে হয় না। স্বাভাবিকভাবেই তিনি পরিবারের একজন হয়ে যান।' আর এই ধারণাই আরএসএস-এর ক্ষেত্রেও চলে বলে জানান তিনি।
এরপরের প্রশ্ন ছিল, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি তাহলে ‘জামাই’-এর মতো হবেন? এই প্রশ্নে হোসাবালে বলেন, 'আমরা এই ছেলেকে নিয়ে গর্বিত।'
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে আরএসএস-এর ভূমিকা কী ছিল? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, 'নাগরিক হিসেবে তাঁরা (স্বয়ংসেবকরা) সব কিছুই করেছে। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের স্বয়ংসেবকেরা দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। কমিউনিস্ট শাসনে এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে আক্রমণ হয়েছে। স্বয়ংসেবকরা শুধু সনাতন হিন্দুদের কথা বলছিল, শাখা পরিচালনা করছিল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী মানুষ তৈরি করছিল, এই কারণেই সরকার বা সরকার-সমর্থিত লোকজন তাদের উপর আক্রমণ চালাত।'
হোসবলের মতে, এবারের বাংলার নির্বাচন শুধু স্বয়ংসেবক নয়, পুরো হিন্দু সমাজের লড়াই ছিল। প্রত্যেক হিন্দু ভোটার নিজের কাজ করেছেন। তাই এই রায় জনমতের সুনামী বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কী দাবি?
তিনি জানান, অতীতেও স্বয়ংসেবকেরা মানুষের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের ভূমিকা পালন করেছে। পাঁচ বছর আগে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার সময়ও আরএসএস কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'আমি নিজেও ২-৩টি জায়গা পরিদর্শন করেছি। আমরা কোনও সেনাবাহিনী নই। সমাজের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজসেবার মানসিকতা থেকেই আমরা এটি করি।'