নতুন সরকার জলঙ্গিতে সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করবে, আশায় বাসিন্দারা
বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, তেহট্ট: বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জন সমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তেহট্ট ও পলাশীপাড়া বিধানসভার অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল তেহট্টে জলঙ্গি নদীর উপর পাকা সেতু তৈরি। দীর্ঘদিন থেকেই এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তেহট্ট ও পলাশীপাড়া বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা। এবার সেই দাবি পূরণ হবে আশায় দুই পাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট ও পলাশীপাড়া বিধানসভাকে আলাদা করেছে জলঙ্গি নদী। পলাশীপাড়া বিধানসভার হাঁসপুকুরিয়া, বার্নিয়া, পলশন্ডা-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সব কাজের জন্য তেহট্টে যেতে হয়। তেহট্টেই মহকুমা আদালত, হাসপাতাল, মহকুমা অফিস, দমকল কেন্দ্রে ও স্কুল-কলেজ রয়েছে। ফলে নিত্যদিন নদী পেরিয়ে তাঁদের যেতে হয়। নদীতে বেশিরভাগ সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত হলেও বর্ষায় জীবন হাতে করে নৌকায় নদী পার হতে হয়। সেই সঙ্গে সময় ও টাকা দুই বেশি লাগে। সেজন্য বাসিন্দাদের এই নদীর উপর সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েকবার সেতু তৈরির জন্য মাটি পরীক্ষাও হয়েছে। ২০২৫ সালে জুলাই মাসে কোন দিক দিয়ে কোন জমির উপর দিয়ে এই সেতু হবে তার মাপজোক শেষ হয়। এমনকি দুই পাড়ে যাঁদের জমি পড়েছে তাঁদের অনুমতিপত্রও সরকার নিয়ে নিয়েছে। তারপর থেকে আর কোনো কিছুই হয়নি। বিজেপি সরকার এবার জমি অধিগ্রহণের জন্য টাকা বরাদ্দ করে দ্রুত সেতু তৈরির কাজ শুরু করবে বলেই আশা করছেন এলাকার মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা সুনীল মণ্ডল বলেন, ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা ক্ষমতায় এলে জলঙ্গি নদীর উপর সেতু তৈরি করবে। বর্তমানে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। এবার আমাদের সেই আশা পূর্ণ হবে বলে মনে করছি। একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা সুমনা বিশ্বাস বলেন, বর্ষার সময় নৌকায় নদী পার হতে হয়। ছাত্রছাত্রী, নিত্যযাত্রী সকলকেই প্রাণ হাতে নদী পার হতে হয়। আর নৌকা গুলিতে থাকে না কোনো সামান্যতম জীবন বাঁচানোর ব্যবস্থা। আমরা নতুন সরকারের কাছে আবেদন করছি ছাত্রছাত্রী সহ সাধারণ মানুষের স্বার্থে খুব তাড়াতাড়ি জলঙ্গি নদীর উপর সেতুর প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হোক। তাহলে আমাদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের সুবিধা হবে। আমাদের আশা নতুন সরকার এই কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু করবে। এবিষয়ে বিজেপির সন্দীপ মজুমদার বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা একে একে পূর্ণ করা হবে। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।